নীল ষষ্ঠীর শুভেচ্ছা

7

নীল ষষ্ঠীর শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এই তেরো পার্বণেরই অন্যতম হল নীল ষষ্ঠীর ব্রত।

দুরকম ভাবে এই দিনটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা যায় একটি লৌকিক মতে দ্বিতীয়টি পৌরাণিক মতে।

আগের একটি পর্বে শিবের নীল কণ্ঠ রূপের পৌরাণিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম আজ নীল ষষ্ঠী ব্রত নিয়ে লিখবো।

 

নীল ষষ্ঠীর ব্রত যারা করেন তারা সারাদিন নির্জলা উপোস রেখে সন্ধের পর শিবলিঙ্গে জল ঢেলে, মহাদেবের পুজো করেন এবং প্রসাদ খেয়ে তবে উপবাস ভঙ্গ করেন। সাধারণত গ্রাম বাংলায় আমাদের মায়েরা এই ব্রত করেন সংসারের ও বিশেষ করে সন্তানের কল্যাণের জন্য।

 

পৌরাণিক ব্যাখ্যার বাইরে যে লৌকিক ব্যাখ্যা আছে নীল ষষ্ঠী নিয়ে সেখানে একটি

ব্রত কথার উল্লেখ পাওয়ার যায়।

এক গ্রামে এক ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণী ছিলেন।

তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। মন দিয়ে ঈশ্বরের আরাধনা করলেও তাঁদের সব ছেলে-মেয়েগুলি একে একে মারা যায়। এই ঘটনায় ঈশ্বরের উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন ব্রাহ্মণী। তাঁরা দু-জনে ঘরবাড়ি ছেড়ে মনের দুঃখে কাশীবাসী হন। কাশীতে গিয়ে একদিন গঙ্গায় স্নান সেরে মণিকর্ণিকা ঘাটে বসে আছেন, হঠাত্‍ই এক বৃদ্ধা ব্রাহ্মণীকে দেখা দিয়ে একটি উপদেশ দেন। তিনি বলেন – চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন নির্জলা উপবাস রেখে মহাদেবের পুজো করবে। সন্ধেবেলা শিবের ঘরে বাতি দিয়ে তবেই জল খাবে।’ ষষ্ঠীবুড়ির কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ফের সন্তান লাভ করেন ওই ব্রাহ্মণী।

আসলে ওই বৃদ্ধা ছিলেন মা ষষ্ঠী। এবং সেই

থেকে মর্তে নীল ষষ্ঠীর ব্রত প্রচলিত হয়।

 

আবার নীল কণ্ঠ শিবের আরাধনা হয় এই তিথিতে। নীল পুজোয় শিব লিঙ্গে জলাভিষেক করলে এবং শিব লিঙ্গ প্রদক্ষিণ করলে শিব কৃপা লাভ হয়। সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয় বলেও বিশ্বাস।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে। সবাইকে জানাই নীল পূজোর শুভেচ্ছা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।