পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা

8

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ পয়লা বৈশাখ। সনাতন ধর্মে এই বৈশাখ মাসের বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রেও বৈশাখ মাস নানা ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সব নিয়েই আজকের পর্ব।

সনাতন ধর্মে বৈশাখ মাসকে মাধব মাস বা
মধুসূদন মাস বলা হয়।যার অর্থ ভগবান কৃষ্ণের মাস। এই মাসে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।অনেকে বৈশাখ মাসে গঙ্গায় অর্ঘ্য দান করলেন এবং গঙ্গা স্নান করলে নানাবিধ সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ হয়।

জ্যোতিষ শাস্ত্রের সাথেও বৈশাখ মাসের সম্পর্ক আছে।“বৈশাখ” শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নাম থেকে। এই মাসে বিশাখা নক্ষত্রটিকে সূর্যের খুব কাছে দেখা যায়।

জমিদারির যুগে পয়লা বৈশাখ মানে ছিলো খাজনা আদায়ের শুরু, নতুন ফসল বেচে কৃষকদের হাতে অর্থ আসতো এবং তারা উৎসবে মেতে উঠতেন
আবার ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন।

ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রেও পয়লা বৈশাখের ভূমিকা রয়েছে|তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয় । প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে
ব্যবসার হিসাব আনুষ্ঠানিক ভাবে লিপিবদ্ধ করার পক্রিয়া। এ থেকে বাঙালির ব্যবসার গৌরবময় অতীত উপলব্ধি করা যায়।

আবার ফিরে আসি শাস্ত্রের কথায়। যেহেতু আজ থেকে মধুসূদন মাস শুরু হচ্ছে তাই পয়লা বৈশাখ থেকে সমগ্র বৈশাখ মাস জুড়ে বিষ্ণুর পুজো করা উচিত। এই সময় সকালে সূর্য প্রণাম করে ” ওম মাধবায় নমঃ “মন্ত্র জপ করুন। শাস্ত্র মতে এই মন্ত্রটি জপ করলে মানুষের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। ভগবানের বিশেষ আশীর্বাদ লাভ হয়।

শাস্ত্র মতে সূচনা হোক নতুন বছরের। আজ
সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। অন্য আধ্যাত্মিক বিষয়
নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।