রানী রাসমণির পরিবারের অন্নপূর্ণা পূজো

8

রানী রাসমণির পরিবারের অন্নপূর্ণা পূজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধারণত বাংলার বনেদি বাড়ির পূজো বা জমিদার বাড়ির পূজো কথা উঠলেই দুর্গা পূজো বা কালী পূজো নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এক কালে বাংলার কিছু বনেদি বাড়িতে জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে দেবী অন্নপূর্ণার পূজো হতো এবং রানী রাসমণির পরিবারের অন্নপূর্ণা পূজো ছিলো তাদের মধ্যে অন্যতম।আজ অন্নপূর্ণা পুজোর প্রাক্কালে রানী রাসমণির অন্নপূর্ণা মন্দির এবং অন্নপূর্ণা পূজো নিয়ে লিখবো।

 

ব্যারাকপুরের অবস্থিত রানী রাসমণির অন্নপূর্ণা অন্নপূর্ণা মন্দির। এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল দক্ষিণেশ্বরের মন্দির নির্মাণের বেশ কয়েক বছর পরে।

 

এই মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত অলৌকিক কাহিনীটি হলো এইরকম – ১৮৪৭ সালে রানি রাসমণি তাঁর জামাই মথুরমোহন বিশ্বাস সহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজন নিয়ে জল পথে কাশীযাত্রা করেছিলেন। যাত্রা শুরুর দিন রাতেই রানীমা দেবীর স্বপ্নাদেশ পান যে কাশী না গিয়ে গঙ্গার পাড়েই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে তাঁর নিত্যপুজোর ব্যবস্থা করা হোক। রানি কাশীযাত্রা স্থগিত করে ফিরে আসেন। নানা কারণে সেবার মন্দির তৈরী হয়নি ।তারমধ্যে তৈরী হয়ে যায় দক্ষিনেশ্বর মন্দির।এদিকে অন্নপূর্ণা-দর্শন না হওয়ায় মথুরমোহনের মনে মনে ইচ্ছে ছিল দেবী অন্নপূর্ণার মন্দির প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করেন তাঁর স্ত্রী রানি রাসমণির ছোটো মেয়ে জগদম্বাদেবী। তৈরী হয় তার মায়ের স্বপ্নদেশ পাওয়া অন্নপূর্ণা মন্দির।

 

মন্দির টি ন’টি চূড়াবিশিষ্ট নবরত্ন মাতৃমন্দির, ছ’টি আটচালার শিবমন্দির, দু’টি নহবতখানা, নাটমন্দির, ভোগের ঘর, গঙ্গায় স্নানঘাট ইত্যাদি তৈরি হয়েছিল।অন্নপূর্ণা মন্দিরটি দেখতে অবিকল দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের মতো।

মন্দিরের গর্ভগৃহে অধিষ্ঠিত শিব ও অন্নপূর্ণার বিগ্রহ অষ্টধাতুর। মাতৃমূর্তি দক্ষিণমুখী।পাশে ভিক্ষা পাত্র হাতে শিব।

 

অন্নপূর্ণা মন্দিরের তোরণদ্বারের ওপর স্থাপিত রয়েছে এক সিংহমূর্তি। যা নিয়ে সেকালে ব্রিটিশরা আপত্তি করে ছিলো কারণ ব্রিটিশদের দাবি ছিল, সিংহ তাদের রাজশক্তির প্রতীক। বিবাদ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। তবে আইনি লড়াইয়ে জয় হয়েছিল রাসমণির পরিবারের।

 

ব্যারাকপুরে অন্নপূর্ণা মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে ছ’টি শিবমন্দির।মন্দিরের পাশেই চাঁদনি রীতির গঙ্গার ঘাট আছে যা রানি রাসমণি ঘাট নামে পরিচিত। শোনা যায় এই ঘাটে ঠাকুর স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ স্নান করেছিলেন।

 

মথুরমোহন বিশ্বাসের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতে জগদম্বা দ্বারা এই মন্দির রানী রাসমণি এবং তাঁর পরিবারের দেবী অন্নপূর্ণার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভক্তিকে আজও বহন করে চলেছে।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। দেবী অন্নপূর্ণা সংক্রান্ত আরো কিছু শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।