অন্নপূর্ণা পূজার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

8

অন্নপূর্ণা পূজার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগামী কাল অন্নপূর্ণা পূজা। আজ অন্নপূর্ণার পূজার ঠিক আগের দিনে দেবী অন্নপূর্ণা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রী তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। যার মধ্যে দিয়ে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব আপনারা উপলব্ধি করতে পারবেন।

 

চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে দেবী অন্ন পূর্ণার আবির্ভাব হয় কাশিতে। এই তিথিতেই প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়। শাস্ত্র মতে দেবী অন্নপূর্ণার আশীর্বাদে সংসার থেকে সব অভাব দূর হয়|নিষ্ঠাভরে দেবীর আরাধনায় সংসার হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ|

 

সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণা অন্নের দেবী, সুখ ও সমৃদ্ধির দেবী|দেবী অন্নপূর্ণা দুর্গার আরেক রূপভেদ।মূলত দ্বিভূজা বা চতুর্ভূজা । গায়ের রঙ লালচে। দ্বিভূজা দেবীর বামহাতে সোনার অন্নপাত্র। ডানহাতে চামচ বা হাতা।মাথায় বিরাজিত অর্ধচন্দ্র। তিনি ক্ষুধার্ত মহাদেবকে অন্নদান করছেন স্মিতহাস্যে তার এক পাশে শ্রী ও অন্য পাশে ভূমি|

 

বাংলায় পৌরাণিক দেবী হওয়ার পাশাপাশি লৌকিক দেবী হিসেবে অন্নপূর্ণা পুজো জনপ্রিয়তা লাভ করে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের মাধ্যমে। তিনি মহা সমারোহে তাঁর রাজত্ব কালে অন্নপূর্ণা পুজোর প্রচলন করেন।

 

বর্তমানে বাংলার বিভিন্ন স্থানে অন্নপূর্ণা পূজো হয়ে থাকে এবং তন্ত্র ও শাক্ত উভয় মতেই হয়ে থাকে দেবীর পূজা।প্রাচীন তন্ত্রসার গ্রন্থে দেবীর পূজা পদ্ধতি রয়েছে, আবার অন্নদামঙ্গল কাব্য রচিত হয়েছে দেবীর মহিমা কীর্তন করে|সব মিলিয়ে সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অপরিসীম।

 

সবাইকে জানাই অন্নপূর্ণা পুজোর শুভেচ্ছা।

ফিরে আসবো আগামী দিনে রাম নবমী উপলক্ষে একটি বিশেষ পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।