বিশেষ পর্ব – ফলহারিণী অমাবস্যা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
গ্রহের প্রতিকারের সাফল্য এবং
তার স্থায়ীত্ত্ব নির্ভর করে সঠিক তিথি
নির্বাচনের উপর।সঠিক তিথিতে করা শাস্ত্রীয় মতে দোষ খণ্ডন সবথেকে বেশি প্রভাব শালী হয়, এবং এই তিথি গুলির মধ্যে দীপান্বিতা অমাবস্যা, কৌশিকী অমাবস্যা, মৌনী অমাবস্যা এবং ফলহারিনী অমাবস্যা কে অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি হিসেবে দেখা হয়। সামনেই ফল হারিণী অমাবস্যা। আজ লিখবো ফল হারিণী
অমাবস্যার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে।
জ্যোতিষ এবং তন্ত্র জগতে ফলহারিণী অমাবস্যা একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তিথি ।জ্যৈষ্ঠমাসের অমাবস্যা তিথিকে ফল হারিণী অমাবস্যা বলা হয়। এই তিথিতে ফলহারিণী মাতারূপে দেবী কালী পূজিতা হন।যদিও ধরিত্রীজাত ফলের সঙ্গে এই মাতৃপুজোর কোনও সম্পর্ক নেই। এই ফল মানবজাতির কর্মফলের কথা স্মরণ করায়।
তবে কিছু শাস্ত্রীয় উপাচারে মরসুমি ফল ব্যবহার করার রীতি রয়েছে যেমন এই তিথিতে মাকালীকে
ফল অর্পণ করলে মায়ের বিশেষ কৃপা লাভ হয় বলে অনেকে মনে করেন।তার অবশ্য কিছু নিদ্দিষ্ট রীতি নীতি আছে। সেসব নিয়ে পরে কোনো সময়ে আলোচনা করবো।
মনে করা হয় এই দিনটিতে মা স্বয়ং ভক্তদের সুকর্মের জন্য আশীর্বাদ প্রদান করেন। অপরদিকে সন্তানের কুকর্মের জন্য উদ্ভূত অশুভ ফলের প্রভাব থেকে তিনিই আবার সন্তানদের মুক্ত করেন। অর্থাৎ ওই দিনে মা স্বয়ং যেমন সন্তানদের শুভ ফল প্রদান করেন, তেমনি তিনি সন্তানদের অশুভ ফলও হরণ করে থাকেন। তাই এই তিথিতে দেবী কালী হয়ে ওঠেন ফল হারিণী।
জাতক জাতিকার জন্মছক বিশ্লেষণ করলে অথবা হস্তরেখা বিচার করলে দেখা যায় অনেকেরই কিছু না কিছু গ্রহদোষ রয়েছে যা মূলত তার জন্ম জন্মান্তরের কর্ম ফল থেকে উদ্ভুত। এই ফল হারিণী অমাবস্যায় সঠিক শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে গ্রহের প্রতিকার গ্রহ গত অশুভ ফল থেকে মুক্তি দেয়।
কারণ এই দিন দেবী আদ্যা শক্তি স্বয়ং ফল হারিণী রূপে বিরাজ করেন।
তাই জ্যোতিষ এবং তন্ত্রের জগতে এই দিনের অন্য মাহাত্ম রয়েছে। অশুভ গ্রহদোষ খণ্ডন বা কোনো বিশেষ প্রতিকার গ্রহণের ক্ষেত্রে এই অমাবস্যাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি হিসেবে দেখা হয়।
ফিরে আসবো ধারাবাহিক কালী কথা এবং ফল হারিণী অমাবস্যা সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় তথ্য নিয়ে আগামী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
