কালী কথা – বাসনা কালী

11

কালী কথা – বাসনা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় আপনাদের গড়িয়ার নারকেল বাগান এলাকায় অবস্থিত জাগ্রত শ্রীশ্রী বাসনা কালীবাড়ি নিয়ে লিখবো।

 

এই মন্দিরে প্রায় দুশো বছর ধরে পূজিতা হচ্ছেন বাসনা কালীমাতা। জনশ্রুতি অনুযায়ী, দেবী নাকি স্বপ্নাদেশে বলেছিলেন এলাকাবাসীদের মনের বাসনা পূর্ণ করার জন্যই তিনি আবির্ভূতা হবেন,তাই মায়ের নাম হয়েছে বাসনা কালী।

বর্তমানে মন্দিরটি নতুন রূপে সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে।

 

যে সময়ে কালীঘাট ছুঁয়ে গড়িয়ার কামডহরি দিয়ে আদিগঙ্গা বয়ে যেত সেই সময় থেকে জনশ্রুতি প্রচলিত আছে যে এই অঞ্চলে এক প্রাচীন গঙ্গার ঘাট ছিলো যাকে বলা হতো চাঁদনী ঘাট বাণিজ্যে বেরিয়ে গঙ্গার এই ঘাটেই নাকি নৌকা নোঙর করেছিলেন চাঁদ সওদাগর।বর্তমানে ওই স্থনেই আছে এক বহু পুরোনো জলাশয় সেই জলাশয় এর পাড়েই দাঁড়িয়ে রয়েছে বাসনা কালী বাড়ি।

 

প্রতিষ্ঠাতা রূপে বসন্তকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এর নাম উঠে আসে যিনি বসন্ত ঠাকুর নামেই বেশি প্রসিদ্ধ।তিনি এই কালী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তাঁকে স্বপ্নে দেবী বলেছিলেন, তুই এখনই বেনারসে যা। আমি তোর জন্য সেখানে অপেক্ষা করছি। আমাকে এই আদি গঙ্গার তীরে এনে প্রতিষ্ঠা কর। আদেশ শুনে বসন্ত ঠাকুর বেনারস ছুটে যান। কোলে বসিয়ে নিয়ে আসেন কালো কষ্টিপাথরের দেবী কালিকার মূর্তি।কথিত আছে বেনারসে যে শিল্পী এই কষ্টিপাথরের কালী তৈরি করেছিলেন, তিনিও একইসঙ্গে স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। তারপর কালীমূর্তি তৈরি শুরু করেন।

 

এখানে ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য কারও কালীকে স্পর্শ করার নিয়ম নেই। আজও বসন্তকুমারের পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এখানে কালীর সঙ্গে গণেশ, দুর্গা, মনসা, শিব, হনুমান সহ আরও অনেক দেব-দেবীর মূর্তি রয়েছে। তাঁরাও নিয়মিত পুজো পান।

 

প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজো সহ এখানে দেবীর নিত্যপুজো হয়। দেবী কালীকে নিরামিষ ভোগ নিবেদন করার রীতি রয়েছে। মনোবাঞ্ছা পূরণের দেবী রূপে বাসনা কালী অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং জাগ্রতা তাই দেবীর টানে অসংখ্য ভক্ত পুজো দিতে আসেন এখানে।

 

ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে ফল হারিণী অমাবস্যা নিয়ে অনেক তথ্য। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।