শক্তি পীঠের ইতিহাস
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
সনাতন ধর্মে বিশেষ করে শাক্তদের মধ্যে শক্তি পীঠ গুলি অতি পবিত্র তীর্থ স্থান। তবে এই শক্তি পীঠ নিয়ে বিশেষ করে তাদের প্রকৃত অবস্থান এবং সংখ্যা সংক্রান্ত বিতর্ক বহু প্রাচীন। শক্তিপীঠ নিয়ে ধারাবাহিক লেখনীর মাধ্যমে এই ইতিহাস এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা গুলি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। থাকবে প্রতিটি শক্তি পীঠ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।আজ শুধু ভূমিকা।
জামাতা মহাদেবকে পছন্দ হয়নি পার্বতীর জনক দক্ষ রাজার। জামাতাকে অপমান করতে যজ্ঞর আয়োজন হয়। নিমন্ত্রণ আমন্ত্রণ পাননি কৈলাশপতি ।সেই অপমানে যজ্ঞের আগুনে আত্মঘাতী হন সতী। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন মহাদেব। সতীর দেহ নিয়ে তান্ডব নৃত্য শুরু করেন শিব।পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার ভয়ে ভগবান বিষ্ণু প্রলয় থামাতে, সুদর্শন চক্র পাঠিয়ে দেন। দেবীর দেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত হয়ে মর্তে বিভিন্ন জায়গায় পতিত হয় । এই সব কটি জায়গাকে সতীপীঠ বা শক্তি পীঠ বলা হয়।
বাংলায় রয়েছে তেরোটি শক্তিপীঠ যার অধিকাংশ রয়েছে বীরভূম জেলায়। আবার কিছু শাস্ত্রে আবার একশো আটটি সতী পীঠের উল্লেখ আছে। রয়েছে বেশ কিছু উপপীঠ এবং সিদ্ধ পীঠ।তবে পীঠ নির্ণয় তন্ত্রের একান্নটি সতী পীঠকেই মান্যতা দেয়া হয়েছে।তন্ত্র চূড়ামনি এবং শিব চরিত গ্রন্থতেও একান্ন পীঠের কথা আছে। দেবী ভাগবতে আবার ১০৮ টি পীঠকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
আগামী পর্ব গুলিতে ধারাবাহিক ভাবে একেকটি শক্তি পীঠ নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লিখবো।পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
