জগন্নাথদেব এবং নৃসিংহ দেব
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
পুরীর মন্দির বা জগন্নাথ দেবের সাথে নৃসিংহ দেবের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। রয়েছে একাধিক প্রচলিত লোক কথা। আজ সেই সম্পর্কে লিখবো।
রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন যখন নীলাচলে জগন্নাথদেবের মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন দেব ঋষি নারদ তাঁকে পরামর্শ দেন যে, প্রথমে ভগবান নৃসিংহদেবের পূজা ও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজা সেই নির্দেশ মেনে নীলাচলে নৃসিংহদেবের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং যজ্ঞ সম্পন্ন করেন।
এরপর যজ্ঞের শেষে নৃসিংহদেব রাজাকে দর্শন দিয়ে আশীর্বাদ করেন। তিনি জানান যে, তিনিই শীঘ্রই দারুব্রহ্ম জগন্নাথ রূপে নীলাচলে প্রকাশিত হবেন। অর্থাৎ, নৃসিংহ ও জগন্নাথ আলাদা দেবতা নন তাঁরা স্বয়ং ভগবানের দুটি ভিন্ন ভিন্ন রূপ।
একদিকে নৃসিংহ দেব যেমন ক্রোধী। উগ্র এবং শত্রু দমনকারি অন্য দিকে জগন্নাথ। সৌম। শান্ত এবং সদা দয়ালু।
একটি প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে একবার পুরীর রাজা গজপতি শত্রুর চক্রান্তর স্বীকার হয়ে রাজ্য হারাতে বসে ছিলেন সেই সময় স্বয়ং নৃসিংহদেবের কৃপায় তিনি আবার নিজের প্রান ও রাজ্য ফিরে পান।
আজও শ্রীমন্দিরে নৃসিংহদেবের বিশেষ পূজা প্রচলিত, এবং জগন্নাথদেবের বহু আচার-অনুষ্ঠানের আগে নৃসিংহদেবকে স্মরণ করা হয়। নীলাচলের নৃসিংহ মন্দিরও এই ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আসলে ভগবান এক এবং অদ্বিতীয় তিনি ভক্তের কল্যাণের জন্য কখনও নৃসিংহ দেব আবার কখনও জগন্নাথ রূপে প্রকট হন।
ফিরে আসবো প্রভু জগন্নাথের সংক্রান্ত লেখা নিয়ে আগামী পর্ব গুলিতে পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
