প্রভু জগন্নাথের মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য

12

প্রভু জগন্নাথের মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ কেবল একটি খাদ্য নয়, এটি ভগবানের কৃপা, আশীর্বাদ ও ভক্তির প্রতীক। যুগে যুগে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য প্রকাশ পেয়েছে।

আজকে তেমনই একটি ঘটনা জানাবো।

 

একবার মায়া পুরের এক জগন্নাথ মন্দিরে স্নানযাত্রার সময় এক রিকশাচালক শ্রীজগন্নাথ মন্দির থেকে খিচুড়ি মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন। তিনি নিজের জন্য যেমন প্রসাদ নেন, তেমনি তাঁর একবন্ধুর জন্যও কিছু মহাপ্রসাদ নিয়ে যান। কিন্তু সেই বন্ধু প্রসাদের মাহাত্ম্য না বুঝে অবজ্ঞাভরে তা মাটিতে ফেলে দিয়ে বলেন তিন প্রসাদ গ্রহন করতে চান না।

 

সেই রাতেই এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। স্বপ্নে তিনি দেখেন, শ্রীবলরাম অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁকে শাস্তি দিচ্ছেন। বলরাম বলেন, “আমার ভাই শ্রীজগন্নাথের মহাপ্রসাদকে তুমি অপমান করার সাহস পেলে? মহাপ্রসাদকে মাটিতে ফেলে দিলে কেন?” স্বপ্নে তিনি ভয়ে কাঁপতে থাকেন। সেখানে দেবী সুভদ্রাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ঘটনাটি দেখে হাসছিলেন, আর শ্রীজগন্নাথদেবও উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি করুণাময় কণ্ঠে বললেন, “না, তাকে হত্যা করো না।”

 

পরদিন সকালে সেই ব্যক্তি গভীর অনুতাপ নিয়ে মন্দিরে এসে শ্রীজগন্নাথদেবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং মহাপ্রসাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ও প্রসাদ গ্রহন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তবে প্রসাদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁর সেই ইচ্ছে সেদিন পূর্ণ হয়নি।

 

কিন্তু প্রভু তাঁর আন্তরিক অনুশোচনা গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর ওপর কৃপাদৃষ্টি

বর্ষণ করেন।

 

এমন আরো অনেক ঘটনা দিয়ে সাজানো

থাকবে আগামী দিনের পর্ব গুলি।

ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।