লৌকিক দেব দেবী – দক্ষিণরায়

4

লৌকিক দেব দেবী – দক্ষিণরায়

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলার অন্যতম প্রসিদ্ধ, জনপ্রিয় এবং রহস্যময় লৌকিক দেবতা হলেন দক্ষিণ রায়।মূলত দক্ষিণ বঙ্গ বিশেষ করে সুন্দরবন এবং বঙ্গপ সাগর লাগোয়া দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলাতেই তার পূজো বেশি হয়।বাঘসহ সুন্দরবনের সমস্ত পশু ও জঙ্গলের নিয়ন্ত্রক এবং রক্ষা কর্তা তিনি।

প্রচলিত বিশ্বাস এবং স্থানীয় লোককথাতেই তার অস্তিত্ব। অনেকে মনে করেন এক সময় তিঁনি রক্ত-মাংসের দেহধারী মানুষই ছিলেন এবং পরবর্তীকালে মানুষের আস্থা এবং শ্রদ্ধা অর্জন করে লৌকিক দেবতায় পরিণত হয়েছেন।বর্তমানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে গোটা সুন্দরবন অঞ্চলে তিনি পুজো পান।

দক্ষিণ রায়ের একটি কল্পিত রূপ অনুসারে তার সারা গায়ে বাঘের মতো ডোরাকাটা দাগ, বিরাট পাকানো গোঁফ, মুখের দু’দিক থেকে ঝরছে লালা, আর লম্বা একটি লেজ। সর্বদা তীর-ধনুক, ঢাল-তলোয়ার-বল্লম নিয়ে যুদ্ধসাজে সজ্জিত।

শোনা যায় এক সময় চোরা শিকারি, অত্যাচারী জমিদার এবং জলদস্যু দের হাত থেকে তিনি সুন্দরবনের মানুষ, পশু পাখি এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করতেন।তার বীরত্ব এবং দয়ালু স্বভাবের জন্য তিনি অরণ্যের প্রতিটি প্রাণী এবং অরণ্যের উপর নির্ভরশীল মানুষের কাছে ভরসা এবং শ্রদ্ধা পেয়ে থাকেন।

বর্তমানে বারুইপুর এর কাছে ধপধপি নামক স্থানে রয়েছে বাবা দক্ষিণ রায়ের বিশাল এবং প্রাচীন মন্দির। মন্দিরের নাম ও দক্ষিণ রায়ের নামে। দক্ষিনেশ্বর মন্দির।মন্দিরে নিত্য পুজো হয়। শনি, মঙ্গলবার বিশেষ পুজো হয়। প্রতি বছর ১লা মাঘ দক্ষিণ রায়ের জন্মদিনে বিশেষ পুজো হয়।এখানে দক্ষিণ রায়ের মূর্তিটি এক সুপুরুষ দেবতার। সাদা গায়ের রং, মোটা কালো গোঁফ, বড়ো বড়ো চোখ, পরনে জামা ও ধুতি। পায়ে বুট। মাথায় মুকুট। কোলে রয়েছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র।

স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন এক সময়ে সুন্দরবন এই অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। তখন থেকেই এই অঞ্চলের রক্ষাকর্তা রূপে বিরাজমান রয়েছেন বাবা দক্ষিণরায়।

আজও সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অনেক অঞ্চলে ছোটো বড়, কাঁচা পাকা অনেক দক্ষিণ রায়ের মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে। আজও কোনো বৈদিক বা পৌরাণিক দেবদেবী নয় বরং জলে জঙ্গলে বসবাসকারী মানুষের কাছে দক্ষিণরায়ই প্রধান দেবতা।

ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে অন্য
কোনো লৌকিক দেবততা বা দেবীর
কথা নিয়ে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।