কালী কথা – শিবানী পীঠ
পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রীজাতক
ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলছে কালী কথা। আজ কালী কথায় কলকাতার কাছেই বারুইপুরে অবস্থিত একটি সুন্দর এবং প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরের কথা জানাবো।আজকের পর্বে শিবানী পিঠ কালী মন্দির।নামে পীঠ থাকলেও এটি কোনো শক্তিপীঠ বা সিদ্ধ পীঠ নয় তবে দক্ষিণ বঙ্গের অত্যন্ত জাগ্রত কালী তীর্থ।
দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুরে অবস্থিত শিবানী পীঠ মন্দিরটি সাধারণ মানুষের কাছে অতি পরিচিত। ভারী সুন্দর এই মন্দিরের পরিবেশটা ।ভট্টাচার্য্য পরিবারের এই মন্দিরটি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৬৬ সালের কালিপূজার দিন।দেবীর বিগ্রহ দারু নির্মিত অর্থাৎ নিম কাঠের। সালঙ্কারা দেবী এখনে চতুর্ভুজা রূপে বিরাজ করছেন।
জনশ্রুতি আছে ভট্টাচার্য পরিবারের, নারায়ণদাস ভট্টাচার্য ও শান্তিলতা দেবীর কন্যা নিরুপমা চক্রবর্তী একদিন স্বপ্নে দেখেন, তাঁর বাপের বাড়িতে পঞ্চাননের পুজো হচ্ছে। পঞ্চানন মন্দিরে পাশে পুকুরের মধ্যে একটি ঘট অবহেলায় পড়ে রয়েছে। স্বপ্নেই তিনি দেখেন, সেই ঘটটিকে তুলতে গেলে ঘটের মধ্য থেকে এক কালীমূর্তি আবির্ভূত হলেন এবং নিরুপমাদেবীকে ঘটটি তুলে প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেন । কিছুদিন পর নিরুপমা দেবী বারুইপুর এসে তার স্বপ্নের কথা জানান।পরবর্তীতে এই পরিবারের দুর্গাদাস ভট্টাচার্য ঘটটি খুঁজে পান এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করে ঘট স্থাপন করা হয়।
শিবানী পীঠ হল দেবী শিবানীর মন্দির।দেবী শিবানী মা কালিরই একটি অংশ।তবে দেবী এখানে ঘরের মেয়ে এবং ভট্টাচার্য পরিবারেরই শিবানী নামক এক বালিকার নামে মায়ের নামকরণ হয় বলে কথিত আছে।
খুবই জাগ্রত মন্দির বলে প্রচুর ভক্ত এখানে আসেন তাদের মনষ্কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে।বিশেষ বিশেষ দিনে খুবই ভীড় হয় এখানে।শণি,মঙ্গলবার এবং প্রতি অমাবশ্যার দিনে এখানে প্রচুর
ভক্ত সমাগম ঘটে
মন্দিরের ভেতরে প্রতিষ্ঠাতা শ্রী দুর্গাদাস ভট্টাচার্যর বেশ কয়েকটি মূর্তি বর্তমান। এখানে নাট মন্দিরের ভেতরে অনেক মুণি ঋষিদের মূর্তি বর্তমান।নাটমন্দিরে বসে একমনে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে প্রশস্তি পাওয়া যায়।শিবানী পীঠ স্থানীয় মানুষের কাছে এক বিশ্বাস এবং ভরসার স্থান।
ফিরে আসবো পরবর্তী কালী কথা
নিয়ে আগামী পর্বে। চলতে
থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
