ফলহারিণী অমাবস্যা ও শ্রী রামকৃষ্ণ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আর কিছু দিন পরেই ফল হারিণী অমাবস্যা।
এই ফল হারিণী অমাবস্যার সাথে বিশেষ ভাবে স্মরণ করা হয় ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের নাম। কারন একবার ঠাকুর রামকৃষ্ণ ফল হারিণী অমাবস্যায় এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটিয়েছিলেন যার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম।
দক্ষিনেশ্বরে থাকা কালীন ১৮৭২ সালে এই বিশেষ অমাবস্যার রাতেই শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর লীলা সঙ্গিনী দেবী সারদাকে ষোড়শীরূপে পুজো করেছিলেন। সেই ফলহারিণী কালী পুজোর রাতে স্ত্রী সারদা দেবীকে রামকৃষ্ণ পুজো করেছিলেন জগৎ কল্যাণের জন্য।
কথিত আছে এই পুজোতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেব তাঁর সর্বস্ব দিয়েছিলেন সারদা মায়ের শ্রীচরণে। এমনকি তাঁর জপের মালাটিও নিবেদন করেছিলেন সারদা মাকে। সারদা মায়ের মধ্যে সেই রাতে ঠাকুর আদ্যা শক্তি মহামায়ার দর্শন করেছিলেন বলে মনে করা হয়।
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ মনে করতেন এই তিথিতে
যদি শুদ্ধ ভক্তি দিয়ে মাকে আত্মনিবেদন করা যায় তবে ভক্তের মনে অধ্যাত্ম চেতনার দ্রুত বিকাশ ঘটে এবং মায়ের কৃপা লাভ করা যায়।
সেই কারণেই ফল হারিণী অমাবস্যাকেই ঠাকুর বেছে নিয়েছিলেন সারদা মাকে মাতৃ রূপে আরাধনার জন্য।এই ঘটনা ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণর আধ্যাত্মিক জীবন এবং সাধনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় রূপে দেখা হয়।
আজও রামকৃষ্ণমঠ ও আশ্রমে ফল হারিণী অমাবস্যা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালিত হয় এবং এই পুজো ‘ষোড়শী’ পুজো নামে পরিচিত|
আগামী পর্বে ফিরে আসবো আবার আগামী পর্বে ধারাবাহিক কালী কথা নিয়ে থাকবে ফল হারিণী অমাবস্যা সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় তথ্য এবং ব্যাখ্যা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
