কালী কথা – ট্যাবা কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আসন্ন ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলছে ধারাবাহিক কালী কথা। আজ কালী কথায় বীরভূমের ঐতিহ্যপূর্ণ কালীপুজোগু লির মধ্যে অন্যতম লাভপুরের ট্যাবা কালী নিয়ে লিখবো।
দেবী কালীকে অনেক রূপেই পুজো করা হয়
যার মধ্যে কিছু রূপ শাস্ত্র সম্মত ও পুরানে উল্লেখিত। আবার কিছু রূপ বা নাম লৌকিক ও হয়
যার সাথে জড়িয়ে থাকে কিছু অলৌকিক ঘটনা বা জনশ্রুতি।বীরভূমের ট্যাবাকালীও এমনই
এক দেবী।
এই পুজোর বয়স প্রায় ২৫০ বছর।মন্দির একটিমাত্র কিন্তু ভিতরে মূর্তি তিনটি।তিনটি মূর্তির মধ্যিখানে থাকেন বড়মা, তাঁর উচ্চতাই ২৬ ফুট। বাঁ দিকে থাকেন ট্যাবা কালী। ডান দিকে রয়েছেন মা বিশ্বেশরী।এই দুই মূর্তির উচ্চতা ১২ ফুট করে।
শোনা যায় এক কালে শিশুদের ট্যাবা নামক এক রোগ হতো এবং এই অঞ্চলে সেই রোগের প্রকোপ , ছিলো বেশি তার নিরাময়ে এই মন্দির থেকে কবচ সংগ্রহ করে পরিয়ে দেয়া হতো এবং তাতেই রোগ নিরাময় হতো বলে বিশ্বাস স্থানীয়দের।
সেই থেকে নাম ট্যাবা কালী।
স্থানীয়দের মুখে শোনা যায় প্রায় আড়াইশো
বছর আগে লাভপুরের জমিদার বংশ এই
গ্রামে মা কালীর পুজো শুরু করেন।
পরবর্তী কালে দোনাইপুরের পাঠকদের হাতে ওঠে। পূজোর ভার।পাঠক বংশের আদি পুরুষরা ছিলেন তান্ত্রিক। কথিত রয়েছে, স্বপ্নাদেশ পেয়ে মন্দিরে ‘ট্যাবা কালী’ মূর্তির প্রতিষ্ঠা করা হয়।
জন শ্রুতি আছে যে প্রথম যিনি পুজো প্রথম শুরু করেন,তিনি চোখে দেখতে পেতেন না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কালীপুজোর দিন তিনি সমস্ত কিছু স্পষ্ট ভাবেই দেখতে পেতেন।
প্রতি বছর কালীপুজোর রাতে তিনজন তান্ত্রিক এবং তিনজন পুরোহিত পুজো করেন। বিসর্জনের দিন পুজো চলাকালীন মায়ের কাছে দেওয়া আলতা ও সিঁদুর নিয়ে গ্রামের সকলে মাখেন। তার পর মন্দির লাগোয়া পুকুরে এক সময়ে তিনটি মূর্তি বিসর্জন করা হয়।
এই কালীপূজো এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দেবীকে অত্যন্ত জাগ্রত বলে মনে করা হয়।
বহু ভক্ত আসেন মায়ের কাছে নিজেদের মনোস্কামনা নিয়ে এবং দেবীর আশীর্বাদে তাদের মনোস্কামনা পূরণ হয় বলেই বিশ্বাস।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
