লৌকিক দেব দেবী – মাকাল ঠাকুর

6

লৌকিক দেব দেবী – মাকাল ঠাকুর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সুন্দরবন অঞ্চলের আরো এক জনপ্রিয় লৌকিক দেবতা হলেন মাকাল ঠাকুর।কে এই মাকাল দেব তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। অনেকে মনে করেন মহাকাল থেকে মাকাল বা মাখাল উৎপত্তি। সেক্ষেত্রে মাকাল শিবের লৌকিক রূপ হতে পারেন।

 

সাধারণত মাটির তৈরী স্তূপ কে মাকাল দেব রূপে প্রান প্রতিষ্টা করে পূজো করা হয়।মাকালদেবের স্তূপে সর্বদা একটি স্তূপ থাকে না বেশি ভাগ ক্ষেত্রে একাধিক স্তূপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

 

মাকাল দেব মূলত মৎসজীবিদের আরাধ্য দেবতা। সেই অর্থে তিনি মাছ বা নদী নালার ঠাকুর।বছরের বিভিন্ন সময় মাকাল দেবতার পূজা হয়ে থাকে। তবে বর্ষাকালে তাঁর পূজার প্রাধান্য বেশি।মৎস জীবিরা মাছ ধরতে যাওয়ায় আগে চাপা ফুল দিয়ে মাকাল ঠাকুরের পূজো করেন।এই পূজায় কোনো ব্রাহ্মণ লাগে না। সাধারণত মৎস্যজীবী দলের প্রধানই পূজা সারেন। আতপ চাল, নিরামিষ বাতাসা আর পাকা কলা নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয়। জ্বালানো হয় প্রদীপ। মাকাল ঠাকুরের সামনে কোথাও কোথাও মাটির কুমির মূর্তি বানানো হয়।

 

কবিশেখরের ‘কালিকামঙ্গল’-এ মাকাল ঠাকুরের উল্লেখ আছে। আবার দেবী মাকালচণ্ডী বাংলার এক বিশেষ লৌকিক দেবী যাকে অনেকে মাকাল ঠাকুরের স্ত্রী রূপ বলে মনে করেন।

 

প্রাচীন বঙ্গে বিশেষ করে গাঙেও দক্ষিণ বঙ্গে ‘আট মাকাল’ পূজো প্রচলিত ছিলো । এই আট মাকালের ক্ষেত্রে বেদিতে আটটি মাটির পর্বতআকৃতি স্তূপ বানানো হতো । আটটি স্তূপের মাঝের স্তূপটিকে ‘আটেশ্বর’ দেবতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।অর্থাৎ মাকাল ঠাকুরের আটটি রূপের খোঁজ পাওয়া যায়।সাধারণত গবাদী পশুদের হিংস্র জন্তুদের হাত থেকে বাঁচতে এই পূজো করা হতো।

 

বাংলা তথা গোটা দেশে ছড়িয়ে আছে এমন অসংখ্য লৌকিক দেব দেবী। ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।

ধন্যবাদ।