লৌকিক দেবদেবী – ক্ষেত্র পাল
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
বাংলার আরো এক জাগ্রত এবং প্রসিদ্ধ লৌকিক দেবতা হলেন ক্ষেত্র পাল।ক্ষেত্রপাল মূলত ভূমিরক্ষক রূপে পূজিত হন আবার কোথাও কোথাও তিনি কৃষির দেবতা। ক্ষেত্রপালের কৃপায় কৃষকদের ভূমি রক্ষা পায় এবং ফসল ভালো হয় বলেই বিশ্বাস।কিছু ক্ষেত্রে তাকে চারটি দিকের দেবতা অর্থাৎ উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম দিকের দেবতা বলা হয়। শুধু হিন্দু ধর্ম নয় বৌদ্ধ ধর্মেও ক্ষেত্র পালের উল্লেখ আছে।
লৌকিক দেবতা হলেও কিছু পুরান এবং তন্ত্র শাস্ত্রে ক্ষেত্র পালের উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘প্রয়োগসার ’ নামক তন্ত্রগ্রন্থে ক্ষেত্রপালের নাম ‘ঘণ্টাদ ’ সেখানে ক্ষেত্র পালের রূপ, পূজো পদ্ধতি এবং মন্ত্রের উল্লেখ আছে।আবার তন্ত্রশাস্ত্রে শিবের একটি নাম ক্ষেত্রপাল বা ক্ষেত্রেশ এবং তিনি কৃষি কাজে যুক্ত থাকেন তাই ক্ষেত্রপালকে শিবের লৌকিক রূপ হিসেবেও দেখা হয়।
মৎস পুরান অনুসারে ক্ষেত্রপাল দিগম্বর , বিশালকৃতি, জটাধারী এবং সর্বদা
কুকুর ও শৃগাল বেষ্টিত হয়ে থাকেন।
বিভিন্ন শাস্ত্রে ক্ষেত্রপালের মোট উনোপঞ্চাশ
প্রকার রূপ বর্ণনা করা হয়েছে।প্রতিটি রূপের আলাদা আলাদা নাম আছে।
বাংলায় ক্ষেত্রপালের পূজো বহু প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে তবে তাঁর মন্দিরের সংখ্যা খুবই কম।
বর্ধমানের পানাগড়ের অধীনস্থ ক্ষেত্রপাল মন্দিরের পুজো আনুমানিক পাঁচশো বছরের পুরনো৷
ক্ষেত্রপাল এখানে প্রস্তরখণ্ড রূপে বিরাজ করছেন প্রথমে ক্ষেত্রপাল ছিল খোলা আকাশের নীচে৷ পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে এবং বর্ধমান রাজপরিবারের
চেষ্টায় ক্ষেত্রপাল মন্দির নির্মাণ হয়।
কথিত আছে এই মন্দিরে ঘন্টা বাঁধলে সব মনস্কামনা পূর্ণ হয় তাই ক্ষেত্র পালের আশীর্বাদ পাবার আশায় ভক্তগণ মন্দিরে ঘন্টা অর্পণ করেন। তাছাড়া নিত্য পূজো উপলক্ষে প্রায় রোজই বহু ভক্তের আগমন হয়।
ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে ধারাবাহিক লৌকিক দেব দেবী প্রসঙ্গে লেখা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
