জগন্নাথ দেব এবং কোহিনুর

31

জগন্নাথ দেব এবং কোহিনুর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরীর মন্দিরেরের সাথে এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে বিশ্বের সবথেকে মূল্যবান হীরে কোহিনুরের।

আজ হয়তো ব্রিটিশ পরিবারের পরিবর্তে কোহিনুর জগন্নাথ দেবের রত্ন ভাণ্ডারে থাকতো। কিন্তু তা হয়নি। কি ভাবে তা সম্ভব হতো আর কেনো হয়নি সেই ইতিহাস নিয়ে আজকের পর্ব।

 

সকলেই জানেন যে কোহিনুরের যাত্রা গোলকুণ্ডায় শুরু হয়েছিল এবং মুঘল দিল্লি, পারস্য এবং আফগানিস্তানে পৌঁছেছিল তারপর ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে শিখ সাম্রাজ্যের প্রথম শাসক মহারাজা রঞ্জিত সিং কোহিনুর অধিকার করেন তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকার রাজা দিলীপ সিংহর হাত থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইংল্যান্ডের রানী কোহিনুর উপহার হিসেবে পান।

 

মহারাজা রঞ্জিত সিং 1839 সালে তাঁর মৃত্যুর আগে হীরাটি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মহারাজার অধীনে থেকেও পাঞ্জাবের তৎকালীন কিছু ক্ষমতাবান আমলা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।

কিছু ইতিহাস বইয়ে মহারাজা রঞ্জিত সিং কর্তৃক পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কাছে কোহিনূর বন্ধক হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

 

মহারাজ রঞ্জিত সিংহ তার ইচ্ছে প্রকাশ করে কোহিনুরকে জগন্নাথ মন্দিরে দান করার জন্য একটি উইল ও লেখেন যাকে ভিত্তি করে আজও পুরীর মন্দির কতৃপক্ষ কোহিনুর তাদের বলে দাবী করে আসছেন এবং সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনি লড়াই লড়তেও তারা প্রস্তুত।

রুঞ্জিত নিজেই মারা যান তার এই শেষ ইচ্ছে অপূর্ন রেখে এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে তার নাবালক উত্তরাধিকারের হাত থেকে কোহিনুর এক প্রকার ছিনিয়ে নেয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা।

 

এখন প্রশ্ন জাগে মহারাজা রঞ্জিত সিং মূল্যবান কোহিনুর দেওয়ার জন্য জগন্নাথ মন্দির বেছে নেওয়ার কারণ কী? আসলে বাঙালিদের মতো শিখ দের সাথে জগন্নাথ দেবের রয়েছে বিশেষ সম্পর্ক।উড়িষ্যার সাথে শিখদের এই নিবিড় সংযোগ প্রথমে গুরু নানকের সময়ে শুরু হয়।

শোনা যায় গুরু নানক একবার জগন্নাথ মন্দির দর্শন করতে এসেছিলেন এবং অন্য ধর্মের হওয়ায় তিনি প্রবেশেধিকার পাননি। পরে পুরীর সমুদ্র সৈকতে তারা যখন অভুক্ত অবস্থায় ছিলেন তখন প্রভু জগন্নাথ তাদের নিজের ভোগ পাঠিয়ে তাদের সেবা করেন। তারপরে গুরু গোবিন্দ সিংয়ের সময়েও শিখ ধর্মের মানুষ রা জগন্নাথের বিশেষ কৃপার পাত্র ছিলেন। আজও সেই পরম্পরা চলছে। তাই মহারাজা রঞ্জিত সিং তার দখলে থাকা সবচেয়ে দামি রত্ন কোহিনূরকে পুরী জগন্নাথ মন্দিরে দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

 

এমন বহু রহস্য এবং অজানা ইতিহাস আছে পুরীর মন্দিরকে কেন্দ্র করে। রথ যাত্রা উপলক্ষে আবার এক বিশেষ পর্ব নিয়ে আগামী পর্বে ফিরে আসবো পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।