দেবী লক্ষীর আটটি রূপের ব্যাখ্যা

218

দেবী দুর্গার স্বপরিবারে কৈলাশ প্রত্যাবর্তনের পর আসেন মা লক্ষী। যদিও সনাতনধর্মবলম্বীরা প্রায় প্রতি দিন বিশেষ করে বৃহস্পতি এবং শুক্রবার দেবী লক্ষীর পুজো করেন তবুও এই কোজাগরী লক্ষী পূর্ণিমার মাহাত্ম অপরিসীম। আজ লক্ষী পুজো উপলক্ষে শাস্ত্রে যে অষ্ট লক্ষী অর্থাৎ দেবী লক্ষীর আটটি রূপের উল্লেখ আছে তাদের প্রতিটি রূপের ব্যাখ্যা ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আপনাদের সামনের তুলে ধরবো।প্রথম রূপ আদি লক্ষ্মী বা মহালক্ষ্মী — তিনি বিষ্ণুপ্রিয়া। বিষ্ণুর সঙ্গেই তিনি চিত্রিত হন।আদি লক্ষী বা মহা লক্ষী হলো আদিরূপ মা লক্ষীর। এই মা লক্ষী হলেন অফুরন্ত ধনসম্পদের অধিষ্ঠাত্রী| দ্বিতীয় রূপ ধনলক্ষ্মী বা ঐশ্বর্য্যলক্ষ্মী — তিনি সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী।এই দেবীর ছটি হাত এবং মূলত লাল শাড়িতেই অধিষ্ঠাত্রী। প্রতিটি হাতে থাকে একে একে চক্র, শঙ্খ, একটি ঘটে বা পবিত্র কলসি, তীর ধনুক এবং একটি পদ্ম। সর্বশেষ হাতটি অভয় মুদ্রার ন্যায় রাখা এবং তা থেকে সোনার মোহর বা মুদ্রা বের হয়।তৃতীয় রূপ ধান্যলক্ষ্মী—ইনি শস্যর দেবী।শস্য ভালো হয়আর্থিক কষ্ট লাঘব হয় এই রূপের পুজো করলে|এই দেবী খাদ্যশস্যএর প্রতীক। দেবীর এক হাত চাষের জমির শস্য সম্পদের আশীর্বাদ স্বরূপ রয়েছে এবং আরেক হাতে থাকে মানব জীবনের প্রয়োজনীয় পুষ্টিদায়ক শস্যের সমাহার। এই দেবীর পরনে থাকে শস্যের রঙের সবুজ শাড়ি| চতুর্থ রুপ গজলক্ষ্মী— গজ বা হাতির সঙ্গে তাঁকে কল্পনা করা হয়। ব্যক্তির শ্রীবৃদ্ধি ঘটে তাঁর কল্যাণে|। এই দেবী হাতির ওপর সরাসরি অধিষ্ঠাত্রী না হলেও, তার চারিদিক আবর্ত থাকে হাতি দ্বারা। রাজকীয় ধন সম্পদের প্রতীক এই দেবী। কথিত আছে সমুদ্র মন্থন কালে ভগবান ইন্দ্রের হারিয়ে যাওয়া ধন সম্পদ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই দেবী|পঞ্চম রূপ সন্তানলক্ষ্মী— সন্তানভাগ্য নিরূপণ করেন এই দেবীরূপ। ভালো সন্তান লাভ হয় এই দেবী সন্তুষ্ট হলে|দেবীর ষষ্ঠ রূপ বীরলক্ষ্মী— ইনি সাহসদাত্রী দেবী।সাহস ও আত্মবিশ্বাস যোগান|এই দেবীর আরাধনা মনের শক্তি, ধৈর্য্য যোগায়, যা জীবনের কঠিন ও ভালো সময়কে সঠিকভাবে পরিচালনা করার শক্তিও যোগায়|সপ্তম রূপে দেবী বিদ্যালক্ষ্মী—ইনি বিদ্যা লক্ষী জ্ঞানের দেবী। বিদ্যা লাভ হয় এই দেবীর পূজায়|বিদ্যার প্রতীক এই দেবী। সরস্বতী ঠাকুরের মতোই এই দেবী পদ্মের ওপর সাদা শাড়িতে অধিষ্টাত্রী হন|অষ্টম রূপে দেবী বিজয়লক্ষ্মী বা জয়লক্ষ্মী— ইনি বিজয়ের অধিষ্ঠাত্রী|বিজয় লাভ হয় এই দেবীর আশীর্বাদে|এই দেবী সর্বদা বিজয়এর প্রতীক স্বরূপ। কোনো সমস্যার থেকে মুক্তি পেতে বা বলা সাফল্য পেতে এই দেবীর পূজা হয়ে থাকে|চলবে দেবী লক্ষীকে নিয়ে শাস্ত্রীয় আলোচনা। ফিরে আসবো আগামী পর্বে।জানাবো দেবী সম্পকে পৌরাণিক ব্যাখ্যা এবং একটি প্রাচীনদেবী লক্ষীর মন্দিরের ইতিহাস। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।