বিশেষ পর্ব-অম্বুবাচী ও মহা পীঠ কামরূপ কামাখ্যা

206

প্রতি বছর অম্বুবাচী উপলক্ষে আসামের কামাখ্যায় দেশের সর্ব বৃহৎ উৎসবটি আয়োজন করা হয় যা অম্বুবাচী মেলা নামে প্রসিদ্ধ|এই মেলা উপলক্ষে দেশ বিদেশ থেকে বহু তীর্থ যাত্রী এসে জড়ো হন কামাখ্যায় আর আসেন অসংখ্য সন্ন্যাসী ও তন্ত্র সাধক|ব্যাপক জন সমাগম হয় এই মেলায়, দর্শনার্থীর সংখ্যা লক্ষ ছাড়িয়ে যায় প্রতি বছর|এই উৎসব ও মেলা পরিচালনার ভার থাকে ‘মা কামাখ্যা দেবালয়’ এর উপর|আজ জানবো শক্তি পীঠ কামাখ্যা ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা অম্বুবাচী সংক্রান্ত নানা প্রথা, কিংবদন্তি ও তার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা|কামরূপ হচ্ছে তীর্থচূড়ামণি। তীর্থচূড়ামনির অর্থ হলো সব তীর্থের মধ্যে সেরা তীর্থ স্থান। যেখানে সতীর যোনি মন্ডল পতিত হয়েছিল সেই জায়গাটাকে বলে কুব্জিকাপীঠ। কথিত আছে যোনিরূপ যে প্রস্তরখণ্ডে মা কামাক্ষা অবস্থান করছেন সেই শিলা স্পর্শ করলে মানুষ মুক্তিলাভ করে।পুরান অনুসারে স্বয়ং কাম দেব এই সতী পীঠ আবিষ্কার করেন এবং দেবীর পুজো করে শাপমুক্ত হন এবং নিজের হারানো রূপ যৌবন ফিরে পান।তার নামে স্থানটির নাম হয় কামরুপ।মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দিরও বিদ্যমান।তাই নব গ্রহের প্রতিকারের জন্য অনেকেই এই স্থান নির্বাচন করেন।শাস্ত্র মতে যেহেতু দেবী সতীর গৰ্ভ ও যোনি পতিত হয়েছিল এই স্থানে এই কারণে এই দেবীকে অনেকে উর্বরতার দেবী বা রক্ত ক্ষরণ কারী দেবীও বলে থাকেন তাই স্বাভাবিক ভাবেই অম্বুবাচী যা দেবীর ঋতু মতি হওয়ার উৎসব এই স্থানে সর্বাধিক গুরুত্ব সহকারে পালন হয়|বর্ষাকালে কামাখ্যা মন্দিরের মুল বেদী হতে নিরন্তর জলের প্রবাহ বইতে থাকে। অম্বুবাচির এই তিন দিনের জন্য এই জল ধারা লাল বর্ণের হয়।অম্বুবাচির সময়ে বিশেষ কিছু প্রথা পালন করা হয় এখানে অম্বুবাচীর দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন দেবীর মন্দির বন্ধ থাকে|এই সময় দেবীর দর্শন নিষিদ্ধ|এই সময়ে একটি লাল কাপড় দিয়েদেবীকে ঢেকে রাখা হয় ভক্তরা মন্দিরের বাইরে থেকে দেবীকে প্রনাম করেন ও নিজের মনোস্কামনা ব্যক্ত করেন|শোনা যায় নিয়ম অমান্য করে এই সময়ে মন্দিরে ঢুকলে দৃষ্টি শক্তি চলে যায়।অম্বুবাচীর চতুর্থ দিন থেকে দেবীর স্নান এর পর তার দর্শন ও স্বাভাবিক পূজা প্রক্রিয়া পুনরায় আরম্ভ হয়|এই পরম্পরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে|অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর দেবীর রক্ত বস্ত্র ভক্ত দের মধ্যে দান করা হয়, প্রচলিত বিশ্বাস মতে এই রক্ত বস্ত্র লাভ করলে জীবনের অনেক সমস্যা দুর হয় ও বহু মনোস্কামনা পূর্ন হয়|সারা সপ্তাহ ধরে চলত থাকবে অম্বুবাচি নিয়ে আলোচনা এবং আগামী অম্বুবাচী নিবৃত্তি উপলক্ষে মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠান হবে।অংশগ্রহণ করতে যোগাযোগ করুন। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।