দেবী মাহাত্মা – দেবী মৌলিক্ষা

202

সামনেই অম্বুবাচি। এই পবিত্র সময়ে বাংলা তথা গোটা রাজ্যর প্রতিটি মাতৃ মন্দিরে কিছু বিশেষ রীতি নীতি পালন করা হয়। শাস্ত্র মতে পুজো অম্বুবাচি চলা কালীন পুজো বন্ধ থাকলেও এই সময় কালী কথার প্রচার ও দেবী মাহাত্মা শোনার জন্য অতি উত্তম সময়। তাই ধারাবাহিক ভাবে চলে আসা দেবী মাহাত্মা পর্ব গুলি চলতে থাকবে। পাশাপাশি অম্বুবাচি এবং কালী তত্ত্ব নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের সামনে নিয়ে আসবো। আজকের পর্বে দেবী মৌলিক্ষা ও তার মাহাত্মা।বাংলা যখন অবিভক্ত ছিলো তখন বাংলা বিহার সীমান্তে অবস্থান করতেন মাতা মৌলক্ষী তবে বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত মলুটি গ্রাম আর এই গ্রামেই রয়েছে দেবী মৌলিক্ষার মন্দির। ‘মৌলি’ অর্থে মাথা এবং ‘ইক্ষা’ শব্দের অর্থ দেখা।দেবীর মূর্তি বলতে শুধু মস্তক-ই দেখতে পাওয়া যায়।খুব সম্ভবত এই কারণেই দেবী এখানে মৌলিক্ষা নামে পরিচিতা।দেবী মূর্তিটি ল্যাটেরাইট পাথর দ্বারা নির্মিত এবং দেবী মৌলিক্ষার মন্দিরটি অতি প্রাচীন এবং টেরাকোটার কাজের অপূর্ব নিদর্শন এই মৌলিক্ষা দেবীর মন্দির।দেবী মৌলিক্ষার সাথে তারা পিঠের দেবী তারার রয়েছে গভীর সম্পর্ক। দেবী মৌলক্ষীকে তারা পিঠের তারা মায়ের বোন বলে মনে করা হয় করা হয়।অনেকেই মৌলিক্ষা মাকে ছোটোবোন এবং তাঁরা মাকে বড়োবোনও বলে ডাকেন। শুধু তাই নয় তারাপীঠের বামা ক্ষেপা মৌলিক্ষা মায়ের কাছেই প্রথম সিদ্ধি লাভ করেন বলেও শোনা যায় তিনিই ছিলেন এই মন্দিরের প্রথম পুরোহিত পরবর্তীতে বামাখ্যাপা তারাপীঠ চলে যান । মৌলীক্ষা মন্দিরে বামদেবের যে সাধনা কক্ষটি রয়েছে সেখানে আজও বামদেবের ত্রিশূল ও বামদেব ব্যবহৃত বৃহৎ শঙ্খটি সেই ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে।আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথি তারামায়ের আবির্ভাব তিথি হিসেবে পালিত হয় এবং ওই দিন তারাপীঠে মা তারাকে পশ্চিমদিকে মুখ করে বসানো হয়। কারণ মলুটি তারাপীঠের পশ্চিমে। বছরের একটি দিনে দুই বোন মুখোমুখি হন এবং নিজে দের মধ্যে গল্প গুজব করেনবলে মানুষের বিশ্বাস। ঠিক কিভাবে এবং কবে থেকে এই প্রথার সূচনা সেই নিয়েও একটি অলৌকিক ঘনার উল্লেখ পাওয়া যায়।কথিত আছে মলুটির রাজা রাখরচন্দ্র তারা মায়ের সামনে একবার আরাধনায় বসেন। সেই সময়ে মন্দিরের পুরোহিত ও পান্ডারা বাঁধা দেন রাজাকে আসন থেকে তুলে পুজোপাঠ বন্ধ করে দেন। রাজা মায়ের প্রতি অভিমান করে চলে এসে দ্বারকা নদের পশ্চিম পাড়ে ঘট প্রতিষ্ঠা করে মায়ের পুজো করে মলুটি গ্রামে ফিরে যান।সেই রাতেই প্রধান পুরোহিতকে তারা মা স্বপ্ন দিয়ে বলেন রাজা রাখরচন্দ্র আমার ভক্ত, সে অভিমান করে চলে গিয়েছে। এবার থেকে পুজোর সময় আমার মুখ যেন পশ্চিমমুখে মলুটির কালীবাড়ির দিকে হয়। সেই থেকে বিশেষ এই তিথিতে তারাপীঠে মা তারাকে পশ্চিমমুখী বসিয়েপুজো করা হয়।এমন অনেক অজানা আধ্যাত্মিক ইতিহাস এবং দেবী মাহাত্ম নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্ব গুলিতে । সঙ্গে থাকবে অম্বুবাচি নিয়ে অনেক তথ্য। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।