দেবী মাহাত্ম – বর্ধমানের জীবন্ত কল্যাণী কালীর কথা

78

বাংলার কালী মন্দিরগুলিকে কেন্দ্র করে যেসব অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় তার সবই যে বহু প্রাচীন কালে ঘটেছে তা নয়। আজও অনেক অবিশ্বাস্য এবং অলৌকিক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। অনেকে জনশ্রুতি বা প্রচলিত কিংবদন্তী বা কাল্পনিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও যারা আস্থাশীল ও শ্রদ্ধাশীল তাদের কাছে সবই সত্যি।এমনই এক কালী মন্দিরের কথাই আজকের পর্বে লিখবো যেখানে দেবীর নিত্য লীলা দর্শন হয়।

তবে সবার আগে বলে রাখি যে অলৌকিক ঘটনা গুলির কথা এখন বলতে চলছি সেগুলি মূলত স্থানীয় দের কাছে শোনা যার বেশি ভাগই লোক মুখে প্রচারিত জনশ্রুতি বা প্রচলিত কিংবদন্তী।

বর্ধমানের কল্যাণী কালী মন্দিরের দেবী কালী ভক্তদের কাছে জীবন্ত কালী নামেই বেশি পরিচিত।
কারণ তাঁদের বিশ্বাস দেবী কল্যাণী আজও জীবন্ত। তিনি কালীরূপে এই মন্দিরে বিরাজিতা।
তিনি আছেন মানেই, সব আছে। সব নিরাপত্তা আছে। ভয় এলে তা দূরে চলে যেতে বাধ্য।
এবং এই বিশ্বাস বা শ্রদ্ধা একদিনে আসেনি
এসেছে বহু অলৌকিক ঘটনার মধ্যে দিয়ে। এসেছে দেবীর ভক্তদের প্রত্যক্ষ উপলব্ধি এবং নানাবিধ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে।

এই অঞ্চলে কান পাতলেই শোনা যায় এক ঘটনা এই মন্দিরে এক চোর চুরি করেছিল। তবে আশ্চর্য জনক ভাবে প্রণামীর অর্থ সে আর নিয়ে যেতে পারেনি। পথেই আচমকা সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। চোর হলেও সে নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও কোনো রকমে মন্দিরে ফিরে এসে দেবী কল্যাণীকে তার প্রণামীর অর্থ ফিরিয়ে দেয় এবং ক্ষমা চেয়ে নেয় দেবীর কাছে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও পর মুহূর্তে সেরে যায় ওই চোরের রোগ । সে নিশ্চিন্তে ফিরে যায় সুস্থ শরীর নিয়ে।

এমন অদ্ভুত জনশ্রুতি আরো অনেক আছে। শোনা যায় একবার এক মহিলা কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। যখন তাঁর মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। সেই সময়ে তিনি দেবীর কাছে নিজের জীবনভিক্ষা করেন দয়াময়ী কল্যাণী কালী সেই আবেদন যেন কান পেতে শুনেছিলেন ।দেখা যায় হটাৎ সেরে গিয়েছেন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ওই মহিলা। পরবর্তীতে তিনি সুস্থ্য শরীরে বহু দিন জীবিত ছিলেন।

দেবী কল্যাণী যেমন দয়াময়ী তেমনই আবার তিনি
ক্রোধ ও করেন। দেবীর ভক্তরা একটা ঘটনার কথা বলেন। গল্পটি এই রকম – একবার দেবী জীবন্ত কালীর ছবি মোবাইলে বন্দি করেছিলেন কোনো এক ভক্ত সেই সময় তিনি হটাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দেবীর ছবিতে যখন প্রণাম করেন তখন বুঝতে পারেন তাঁর জ্বর আচমকা উধাও হয়ে গিয়েছে।আজও অনেক ভক্ত অনুভব করতে পারেন যে দেবী তাঁদের আশপাশেই আছেন। আশপাশেই ঘোরাঘুরি করছেন। এভাবেই এই মন্দিরের দেবী কালী যেন বুঝিয়ে দেন, তিনি জড় বিগ্রহ নন। তিনি জীবন্ত।প্রয়োজন শুধু আস্থা আর তার প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পন।তিনি পরম দয়াময়ী এবং শুন্য হাতে কাউকে ফেরান না।

কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহু দূর।সবই বিশ্বাস এর ব্যাপার।বিশ্বাস ও আস্থা যেখানে প্রাধান্য পায় সেখানে বিজ্ঞান বা যুক্তিবাদের প্রশ্ন না তোলাই ভালো। তাই কোনো কুসংস্কার বা অন্ধ বিশ্বাসকে পশ্রয় না দিয়ে শুধু জনশ্রুতি গুলি যেমন প্রচলিত আছে তেমন তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। দেবী মাহাত্ম নিয়ে ধরাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে। আগামী দিনে এমন অনেক অজানা অবিশ্বাস্য ঘটনা জানতে পারবেন। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।
ধন্যবাদ।