দেবী মাহাত্ম – মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পারিবারিক কালী পুজো

21

বাংলার ইতিহাসের নানা ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে এক রাজার নাম তিনি নদীয়া তথা কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র। বাঙালির দূর্গা পূজা বা জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা লগ্নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। আবার মহারাজার পরিবারের উত্তরসূরিরা বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন। আজকের পর্বে লিখবো মহা রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পরিবারের কালী পুজো নিয়ে।কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীর খুব কাছে আনন্দময়ীতলা নামে একটি স্থান রয়েছে। পাশের রাস্তাটির নামও আনন্দময়ী রোড। সবই আসলে রাজ পরিবারের পূজিতা কালী দেবী আনন্দময়ীর নামে।দেবীর পুজো শুরু করেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র মহারাজা গিরিশচন্দ্র। তথ্য অনুসারে ১৮০৪ সালে মা আনন্দময়ীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি।শোনা যায় গিরিশ চন্দ্র রায় তন্ত্রসাধক ছিলেন। তন্ত্র মতে তিনি এখানে পুজো করতেন। এবং নানা রকম তন্ত্র সাধনা করতেন। তার অবর্তমানে রাজ পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং সেই পরম্পরা আজও সমান ভাবে চলছে।কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে আনন্দময়ী মায়ের পুজোর রয়েছে কিছু বিশেষত্ব যেমন এখানে আনন্দময়ী মাকে মাছের আঁশ হলেও দিতে হয় ভোগে।শুধু আঁশ নয় মা আনন্দময়ীকে ভোগে রোজ মাছ দেওয়া আবশ্যক।শোনা যায় আনন্দময়ীর রূপ স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজা গিরিশচন্দ্র রায়।সেই রূপেই স্থাপিত হয় আনন্দময়ী মা।দক্ষিণমুখী এই মন্দিরে গর্ভগৃহে হাঁটু মুড়ে যোগাসনের শুয়ে আছেন মহাদেব। মহাদেবের বুকের উপর পদ্মাসনে বসে আছেন মা আনন্দময়ী। মহাদেবের বিগ্রহটি শ্বেত পাথরে নির্মিত এবং দেবী আনন্দময়ীর বিগ্রহটি কষ্টিপাথরে নির্মিত। প্রায় সাড়ে তিন ফুটের কাছাকাছি উঁচু এই দেবীর মূর্তি চতুর্ভূজা।এছাড়াও মন্দিরে রয়েছে ছোট কালী মূর্তিদেবী শীতলা ও অন্যান্য দেবদেবী বিগ্রহ। জন শ্রুতি আছে যে বর্তমানে যেখানে দেবী মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সেখানে আগে ছিল প্রকাণ্ড একটি কষ্টিপাথর এবং সেই পাথরের নির্মিত হয়েছে মহারাজের স্বপ্নে দেখা আনন্দ ময়ী মায়ের মূর্তি । বর্তমানে শুধু রাজ পরিবার নয় সমগ্র জেলা তথা বাংলা থেকে মায়ের ভক্তরা আসেন।সবার বিশ্বাস মা আনন্দময়ীর কাছেযদি কোনও ভক্ত অন্তর থেকে কিছু প্রার্থনা করেন তাঁর মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়ই।আসন্ন ফল হারিণী অমাবস্যায় আপনাদের সব আশা পূর্ণ হবে।শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন করান এবং সব বাধা বিপত্তি কাটিয়ে উঠুন।ফিরে আসবো পরের পর্বে। চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম এবং আপনাদের প্ৰিয় মন্দির রহস্য পর্ব। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।