দেবী মাহাত্ম – লাল দূর্গা

208

নবদ্বীপে ভট্টাচার্য্য বাড়ির দুর্গাপুজো বাংলার প্রাচীনতম পারিবারিক দুর্গাপূজাগুলির অন্যতম।এই পূজোর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো প্রতিমার গায়ের রং। দেবী এখানে সম্পূর্ণ লাল রঙের। কেনো এই অদ্ভুত রূপ সেই নিয়েই আজকের পর্ব।দেবীর এই রক্তবর্ণ রূপের পেছনে একটি অলৌকিক ঘটনা রয়েছে।কথিত আছে একবার দুর্গাপুজোর সময় মায়ের পূজা চলাকালীন ভুল চণ্ডীপাঠের কারণে আশ্চর্যজনকভাবে মায়ের মূর্তি দিক পরিবর্তন করে দক্ষিণমুখী হয়ে যায় এবং সম্পূর্ণ রূপ পরিবর্তন করে রক্তবর্ণ ধারণ করে। কার্তিক ও গণেশের স্থান বদল হয়ে যায় একে অপরের সাথে।শুধু তাই নয় চণ্ডীপাঠ রত ভট্টাচার্য্য বাড়ির ওই সদস্যের সারা শরীর ফ্যাকাসে ও রক্তশূন্য হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই সদস্য প্রাণ ত্যাগ করেন বলেও শোনা যায়।অলৌকিক এই ঘটনার কারন হিসেবে তারা মনে করেন পুজোয় ভুল থাকায় দেবী বেজায় ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন বলেই তিনি রক্ত বর্ণের হয়ে যান।ফল স্বরূপ পরিবারের সদস্যর প্রাণ হানী হয়।সেই থেকে এই রক্ত বর্ণ দূর্গামূর্তি পূজিতা হয়ে আসছেন এখানে।প্রতি বছর দূর্গা পুজোয় নিষ্ঠা সহকারে দেবী দুর্গার পুজো করা হয় এখানে। দেবী লাল দূর্গা নামেই জনপ্রিয়। পুজোতে মাকে বোয়াল মাছ ও থোড় দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। পূর্বে বলির প্রথা থাকলেও বর্তমানে কুমড়ো বলি দেয়া হয় মায়ের পুজো তে।খুব সচেতন ভাবে প্রতিটি নিয়ম ও রীতি পালন করা হয় যাতে আর কখনো দেবীর ক্রোধ না জন্মায়।ফিরে আসবো পরের পর্বে এমনই কোনো দেবী মাহাত্ম নিয়ে। থাকবে অলৌকিক সব ঘটনার সম্ভার ও তাদের ব্যাখ্যা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।