মন্দির রহস্য – শীতলা মন্দির রহস্য

248

পূর্ব মেদিনীপুরের নাচিন্দা গ্রামে রয়েছে এক জাগ্রত শীতলা মাতার মন্দির যেখানেদেবী শীতলা চণ্ডীকে নিয়ে প্রচলিত আছে বহু অলৌকিক জনশ্রুতি।আজ এই মন্দিরে কথা আপনাদের জানাবো।শোনা যায় যেখানে শীতলা মন্দির, তার কাছাকাছিই থাকতেন এক অসুস্থ বৃদ্ধা।একদিন রাতে ওই বৃদ্ধাকে স্বপ্নে দেখা দেন দেবী শীতলা এবং তিনি বলেন, ‘তুই চুপচাপ শুয়ে থাকিস না। তোর বাড়ির সামনের পুকুরে রোজ স্নান করবি।স্নান শেষে একট গাছের নীচে ঘট স্থাপন করবি।আমার পুজো করবি। আমার পুজো করলে তোর আর কোনো দুঃখ থাকবেনা। আমার পুজো করলে রোগগ্রস্ত মানুষ মুক্তি পাবে। সন্তানহীনা সন্তান লাভ করবে।স্বপ্ন দেখার পর বৃদ্ধর ঘুম ভেঙে যায়।সেদিন ছিল অক্ষয় তৃতীয়া।তিনি স্বপ্নে দেখানো দেবীর নির্দেশমতোই পুকুর থেকে স্নান সারেন। তারপর একটি গাছের নীচে জলভর্তি ঘট স্থাপন করেন।দেবীর পুজো করেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠেন।সেই থেকে প্রতিবছর অক্ষয় তৃতীয়ায় বিশেষ পুজো হয় এই মন্দিরে। পুজো উপলক্ষে মেলাও বসে।এই অঞ্চলে দেবী শীতলা চন্ডীকে নিয়ে বহু অলৌকিক ও অদ্ভুত ঘটনা প্রচলিত আছেশোনা যায় দেবী শীতলা নানা রূপে এই মন্দিরের আশপাশে ঘুরে বেড়ান।একবার তিনি সাধারণ বিবাহিত মহিলার রূপ ধরে শাঁখা পরেছিলেন শাঁখারির থেকে আবার কোনো এক রাতে কয়েকজন জন ক্লান্ত পথিককে মন্দির চত্বরে আশ্রয় দিয়ে রেঁধে খাইয়েছিলেন।পরদিন ভোরে পূজারির ডাকে তাঁদের ঘুম ভাঙে। পূজারি তখন সেই পথিকদের জানান যে স্বপ্নে দেবী শীতলা তাঁকে দেখা দিয়েছিলেন। স্বপ্নে দেবী বলেছেন, রান্না করতে গিয়ে তাঁর হাত পুড়ে গেছে। শাড়িতে কালী লেগেছে।সেই সময়ে পূজারি এবং ওই চার ভক্ত দেখতে পান যে দেবী মূর্তির হাতে পোড়া দাগ। আর, শাড়িতে রান্নার কালির দাগ।অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন পুজো দিতে তাদের বিশ্বাস দেবী ভক্তদের মনস্কামনা পূরণ করেন। মানত পূরণের পর এখানকার ভক্তরা মন্দিরে এসে পুজো দিয়ে যান।বহু এমন মন্দিরের কথা ও দেবী মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা চলবে ধারাবাহিক ভাবে।ফিরে আসবো আবার যথা সময়ে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।