নেপাল ভ্রমণ – গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী

65

ভাবতেও অদ্ভুত লাগে যে মাটিতে, যে স্থানে ভগবানের অবতার গৌতম বুদ্ধ জন্মেছিলেন সেই পবিত্র স্থানে আমি এই এখন দাঁড়িয়ে আছি..হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন,নেপাল ভ্রমণ পর্বে আজ আমি জগৎ প্রসিদ্ধ লুম্বিনী তে আছি..বর্তমানে নেপালের দক্ষিন পশিমাঞ্চলের একটি ছোট্ট শহর লুম্বিনী যা প্রত্নতাত্ত্বিক ভাবে প্রায় পাঁচশো পঞ্চাশ খ্রিষ্ট পূর্বের নিদর্শন বহন করছে।স্থানটি বৌদ্ধ এবং হিন্দু দুই ধর্মের মানুষের কাছেই অতি পবিত্র|ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বও অপরিসীম|বৌদ্ধধর্মের একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে বলা হয়েছে হিমালয়ের পাদদেশে নেপালের লুম্বিনিয়াজনপদে গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়।বৌদ্ধ পুরাণ অনুযায়ী গৌতম বুদ্ধের মা মায়াদেবী শাক্য রাজধানী কপিলাবস্তু থেকে তার পৈতৃক বাসগৃহে যাচ্ছিলেন তখন তিনি গর্ভবতী এবং পথেই লুম্বিনি বনে একটি শালগাছের নিচে গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়।বুদ্ধের জন্মের আগে মায়াদেবী এখানে একটি দীঘিতে স্নান করেন।সেই দীঘিতে সিদ্ধার্থকেও জন্মের পর স্নান করানো হয়।এই জলাশয়টি পবিত্র পুষ্করিণী হিসেবে খ্যাত যার প্রতিটি জল বিন্দুতে রয়েছে বুদ্ধের স্পর্শ ।বর্তমানে লুম্বিনিতে রয়েছে এই পবিত্র পুষ্করিণী। রয়েছে মায়াদেবী মন্দির।এই মন্দিরের একটি স্থান চিহ্নিত করা রয়েছে।বলা হয়ে থাকে ঠিক এই স্থানেই গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল|সেই জলাশয় দর্শন করে আমি ধন্য|গৌতম বৌদ্ধের মাতা মায়া দেবী বাগানের একটি গাছের কাছে বৌদ্ধের জন্ম দিয়েছিলেন। সেখানে তার নামে একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। ছোট একটি পার্কের মাঝখানে রয়েছে সুন্দর এই মন্দিরটি|প্রতিবছর বৈশাখী পূর্ণিমায় লুম্বিনির অধিষ্ঠাত্রী মায়াদেবীর মন্দিরে পুজো দিতে হাজার হাজার হিন্দু তীর্থ যাত্রী এই তীর্থে আসেন।হিন্দুপুরাণে মায়াদেবীকে রূপাদেবী বলা হয়ে থাকে।বৈশাখী পূর্ণিমা ছাড়াও প্রতিদিনই সকাল থেকে বৌদ্ধ পুণ্যার্থীরা লুম্বিনিতে আসেন এবং সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান দর্শন করেন।শুধু জন্মগ্রহণই নয় সিদ্ধার্থ বুদ্ধ হওয়ার পরও লুম্বিনিবনে এসেছিলেন।তিনি দেবদহতে যাওয়ার পথে লুম্বিনিবনে কিছুকাল বাস করে ছিলেন এবং এই স্থানেই তিনি বিখ্যাত দেবদহ সুত্ত বর্ণনা করেন।ইউনেস্কো লুম্বিনিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করেছে।কজ লুম্বিনী তে এসে বুদ্ধজন্মস্থান দেখার পাশাপাশি বেশ কিছু প্রাচীন মন্দির,মঠ ও অশোকস্মারক স্তম্ভ দর্শন করলাম|মৌর্য সম্রাট অশোক এই তীর্থভূমি পরিদর্শনে এসেছিলেন এবং তার আগমনের স্মারক হিসেবে এখানে এই অশোক স্তম্ভ স্থাপন করা হয়।ষষ্ঠ শতকে বিখ্যাত চীনা সন্ন্যাসী ও পর্যটক ফা হিয়েন তার লেখায় এই অশোক স্তম্ভর কথা বর্ণনা করেছেন|নেপালের অন্যতমশাসক খাদগা সোমেশ্বর রানার উদ্যোগে নেপালী প্রত্নতত্ববিদরা এই অশোক স্তম্ভ আবিষ্কার করেন|সারা বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান তীর্থ স্থান গুলির মধ্যে লুম্বিনি হলো অন্যতম। অন্য তিনটি হলো কুশিনগর,বুদ্ধগয়া এবং সারনাথ।প্রতিবছর বৈশাখী পূর্ণিমায় লুম্বিনির অধিষ্ঠাত্রী মায়াদেবীর মন্দিরে পুজো দিতে হাজার হাজার হিন্দু তীর্থ যাত্রী এই তীর্থে আসেন।হিন্দুপুরাণে মায়াদেবীকে রূপাদেবী বলা হয়ে থাকে।ইতিহাস ও পুরান ও ধার্মিক গুরুত্ব ছাড়াও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যর দিক দিয়েও লুম্বিনী কোনো অংশে কম নয়|নেপাল ভ্রমণ সম্পূর্ণ হতে পারেনা লুম্বিনী না দেখলে|আর সব অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে আনন্দ আরো বেড়ে যায়|সঙ্গে থাকুন|ভালো থাকুন|পড়তে|থাকুন|ধন্যবাদ|