মন্দির রহস্য – মহারাজা নন্দকুমারের গুহ্যকালী মন্দির

142

বর্তমান কলকাতার ফ্যান্সি মার্কেট অঞ্চলে মহারাজা নন্দ কুমারের ফাঁসি হয় ১৭৭৫ সালের ৫ই অগস্ট। ফাঁসি থেকেই পরবর্তীতে ওই এলাকার নাম হয় ফ্যান্সি মার্কেট|তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি প্রকাশ্য ফাঁসির সাজায় দণ্ডিত হন। বর্তমান বীরভূমের নলহাটি থানার ভদ্রপুরে ব্রাহ্মণ পরিবারে ১৭০৫ সালে জন্ম মহারাজ নন্দকুমারের|১৭৬৪ সালে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ মহারাজ নন্দকুমারকে ‘মহারাজা’ উপাধি দিয়েছিলেন|আজ শুরুতেই এই ঐতিহাসিক চরিত্রের নাম বললাম কারন আজ যে মন্দির নিয়ে লিখবো তা মহারাজা নন্দকুমারের কালী মন্দির নামেই প্রসিদ্ধ|বীরভূমের আকালিপুরে আছে এই গুহ্যকালিকা মন্দির। নলহাটি এলাকার গ্রাম এই আকালিপুর। যা মহারাজা নন্দকুমারের জন্মস্থান বলে পরিচিত| কথিত আছে এই গুহ্যকালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বয়ং মহারাজ নন্দকুমার। সর্পের ওপর আসীন, সর্পের আবরণে ভূষিতা, বরাভয়দায়িনী, দ্বিভুজা জগন্মাতা গুহ্যকালী।দেবীর মন্দিরটি উঁচু বেদির ওপর তৈরি, ইটের তৈরি আটকোণা, দক্ষিণমুখী। মন্দিরের গর্ভগৃহের চারদিকে প্রদক্ষিণ করার পথ আছে। এর তিনটি প্রবেশদ্বার। তার মধ্যে মূল দ্বারটি রয়েছে দক্ষিণ দিকে। এছাড়াও আরও দুটি প্রবেশদ্বার আছে এই মন্দিরে। তার একটি পূর্ব, অন্যটি পশ্চিম দিকে। যা পাথরের তৈরি। কথিত আছে, এই মন্দির নির্মাণের সময় দেওয়াল ফেটে যায়। ভক্তদের দাবি, তার পর রাতে দেবী স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেহেতু শ্মশানবাসিনী, তাই মন্দিরের দরকার নেই। এখনও দেবীর সেই নির্দেশের প্রমাণ হিসেবে, মন্দিরের উত্তর-পূর্ব দিকে দুটি ফাটল রয়েছে।অর্থাৎ সেই থেকে ঐভাবেই পূজিতা হয়ে আসছেন দেবী|মন্দিরের দক্ষিণে “পঞ্চমুণ্ডী” নামে পরিচিত একটি সিদ্ধাসন রয়েছে।১১৭৮ বঙ্গাব্দের ১১ই মাঘ এই মন্দির তৈরি হয়েছিল রটন্তী কালীপুজোর দিন। তাই প্রতিবছর মাঘ মাসে রটন্তী কালীপুজোর দিন বিশেষ আয়োজনের সঙ্গে দেবীর পুজো করা হয়। দেবীর মূর্তিটি কালো পাথরের। এমনিতে যাঁর নিত্যপুজো চলে। তবে, রটন্তী কালীপুজোর সময় আশপাশের তো বটেই, দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এই মন্দিরে আসেন পুজো দিতে। রটন্তী কালী পুজোর পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজোর ব্যবস্থা হয়|আবার ফিরবো আগামী পর্বে|আলোচনা করবো অন্য কোনো রহস্যময় মন্দির ও তার সাথে জড়িত নানা কিংবদন্তী নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|