মন্দির রহস্য – ঝাড়গ্রামের সাবিত্রী মন্দিরের রহস্য

63

ঝাড়গ্রামের সাবিত্রী মন্দির আজকের মন্দির রহস্যর বিষয় যে মন্দির ঘিরে আছে নানা লোককথা।সাবিত্রী মন্দিরের দুর্গাপুজোপ্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন।অদ্ভুত একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় সেটা সংক্ষেপে আগে বলে নিই – আজ থেকে চারশো বছর আগে ঘন জঙ্গল ছিল ঝাড়গ্রামের এই সব এলাকা। রাজস্থান থেকে শিকারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে রাজা মান সিং হঠাৎই এই অঞ্চলে এসে পড়েন। এবং ঘন জঙ্গলে হঠাৎই তিনি অপূর্ব সন্দরী এক রমণীকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তাঁর রূপে মুগ্ধ রাজা সাতপাঁচ না ভেবেই তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। রাজার কথা শুনে ওই রমণী শর্ত দেন, রাজা সামনে পথ দেখিয়ে তাঁকে নিয়ে যাবেন, আর পিছনে-পিছনে তিনি যাবেন, কোনও অবস্থাতেই রাজা যেন পিছনে ঘুরে না তাকান। তা হলেই বিপদ ঘটবে।শর্ত মেনেই রাজা রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। পেছনে হাঁটতে লাগলেন সেই রমণী|বেশ কিছু পথ চলার পরে রাজার মনে হল যে ওই রমণী কি তাঁকে ছলনা করছেন কারন পিছনে তো কোনো আওয়াজ নেই! ভাবতে ভাবতে হঠাৎই পিছন ফিরে তাকিয়ে ফেলেন রাজা। সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। তিনি দেখেন, ওই রমণী ধীরে ধীরে প্রবেশ করছেন মাটির নীচে! দেখে রাজা ছুটে আসেন এবং রমণীর মাথার চুল ধরে তাঁকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হন। তবে তাঁর হাতের মুঠোয় রয়ে যায় রমণীর একগোছা চুল। রাজা বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যান। এবং বোঝেন ইনি সামান্যা নারী নন|নিশ্চই তিনি কোনো দেবী|সেই রাতেই রাজা স্বপ্নাদেশ পান যেখানে দেবী সাবিত্রী ওই স্থানেই মন্দির গড়ে তাঁর পুজোর নির্দেশ দেন রাজাকে । মন্দির তৈরি করে পুজো শুরু হয়। আর প্রথম থেকেই মা সাবিত্রীর চুল পুজো হয়ে আসছে এখানে। মায়ের শুধু মুখের অংশটুকুই দেখা যায় এখানে। মা সাবিত্রীরই আরেক রূপ যেহেতু দেবী দুর্গা তাই দুর্গাপুজোর দিনগুলি এখানে ধুমধাম করে পুজো হয়। তবে এখানে দুর্গামূর্তি পুজোর প্রচলন নেই। পটেই পুজো হয়। অনেকেই এই পুজোকে তাই পটেশ্বরীর পুজো বলেন। এখানকার পুজোয় বলি দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। দুর্গাপুজোর সন্ধিপূজাতেও বলি দেওয়া হয়। দশমীর দিন পাটাবিধা হয়। একটা কলাগাছকে রেখে তার মধ্যে তির ছুঁড়ে মারা হয়। অর্থাৎ, অশুভ শক্তি বিনাশ করে পুজোর সমাপ্তি। সাবিত্রী মন্দিরে সাবিত্রী দেবীর নিত্যপুজো হয়। প্রতিদিন বহু মানুষ ওই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন এবং ভক্তিভরে মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন। প্রতিদিন যজ্ঞ, হোম ও চণ্ডীপাঠ হয়। বাংলা সহ ঝাড়খন্ড ও ওড়িশাথেকে বহু মানুষ এই পুজা দেখতে আসেন।যথা সময়ে আবার ফিরবো আগামী পর্বে|আলোচনা করবো অন্য কোনো রহস্যময় মন্দির ও তার সাথে জড়িত নানা কিংবদন্তী নিয়ে |সঙ্গে থাকুন|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|