মন্দির রহস্য – মাটিয়া কালী

17

আজ মন্দির রহস্য পর্বে আপনাদের জন্য এমন এক কালী পুজো নিয়ে লিখবো যেখানে তথা কথিত মন্দির বলে কিছু নেই আবার মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি থেকেও নেই|আগাগোড়া পুরোটাই রহস্য দিয়ে ঢাকা|দেবী এখানে মাটিয়া কালী নামে প্রসিদ্ধ|দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কালী মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম কালী মন্দির হল কুশমন্ডি ব্লকের আমিনপুরের ‘মাটিয়া কালী’ মন্দির।দীর্ঘ ৬০০ বছর ধরে এখানে পুজো হয়ে আসছে দেবীর।যে মাটির আসনে পুজো করা হয় তাঁকে সেই মাটিতেই মিলিয়ে যান তিনি। এখানে দেবীর কোনো প্রতিমা নেই। নেই কোনো পাকা মন্দির। তিনি এখানে মাটির বেদীতেই বিরাজমান।স্বাধীনতার আগে ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় রটন্তী কালী নামে মায়ের পুজো করে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল জমিদার বংশ। যদিও পরে মাটিতে থাকার কারণে এই রটন্তী কালী এলাকাবাসীর কাছে ‘মা মাটিয়া কালী’ নামে পূজিত হন।পুজোর সূচনা গ্রামের জমিদার যোগেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর আমলে। ইংরেজ আমলে হরিপুর এস্টেটের জমিদারির দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। তিনিই একদিন দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। মা কালী তাঁকে নির্দেশ দেন, এই গ্রামের মাটিতেই মিশে আছেন তিনি । তাই তিনি এই খোলা আকাশের নীচে মাটির বেদীতেই পুজো নিতে চান। স্বপ্নাদেশ মতো আজও নির্মাণ করা হয়নি কোনো মন্দির। সেই থেকে মাটির বেদীকেই মা কালী রূপে পুজো করে আসছেন গ্রামের লোক|গ্রামের অভিভাবকের আসনে দেবী স্বয়ং তাই গ্রামে যেকোনো শুভ কাজের পূর্বে দেবীর পুজো করা হয় রীতি মেনে|পূর্বে ‘মা মাটিয়া কালীর’ থানের ঈশাণ কোণে ছিল একটি ঘর। যেখানে এক সময় মায়ের সাজগোজের গয়না রাখা হত। তার পাশেই রয়েছে পঞ্চমুখী শিব। যদিও মায়ের পাকা মন্দির নেই তবে পঞ্চমুখী শিবের জন্য মন্দির করা হয়েছে। প্রাচীন রীতি মেনে আজও মাটির থানেই হয় এই পুজো। শোনা যায়, মা মাটিতে থাকার কারণে সেই সময়ে জমিদার পরিবারের সকলে নাকি মাটিতেই ঘুমোতেন।তবে কার্তিক মাসের দীপান্বিতা অমাবস্যায় তাঁর পুজোর সময় তৈরী করা হয় দেবী প্রতিমা যা পরবর্তীতে মাটিতেই বিলীন হয়ে যায়|আগামী পর্বে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|