সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজো

16

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সাড়া জাগানো নাম তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়|তবে সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি তিনি মাতৃ শক্তির আরাধনাও করেছেনশতাব্দী প্রাচীন বন্দোপাধ্যায় বাড়ির কালী পুজোবেশ কয়েকটি কারনে বৈচিত্রপূর্ন|আজ লিখবো সাধক তারাশঙ্করের পুজো নিয়ে|বীরভূমে রয়েছে একাধিক শক্তি পীঠ যার মধ্যে সতী পীঠের অন্যতম লাভপুরের ফুল্লরা মায়ের মন্দিরে প্রথমে পুজোর পর তারা মায়ের পুজোশুরু হয় তারাশঙ্করের পৈতৃক ভিটেতে। বন্দোপাধ্যায় বাড়ির গৃহ মন্দিরে তারা মা, নীল সরস্বতী রূপে বিরাজমানা।তারাশঙ্করের বাড়ির পুজোয় মা দশ মহাবিদ্যার এক বিদ্যারূপে পূজিত হন। তারাশঙ্করের বংশধর এবং পরিবারের সদস্যরা তো বটেই প্রতি অমাবস্যা এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে রাতের এই পুজোয় অংশ নেন আশেপাশের গ্রাম মিলিয়ে কয়েকশো মানুষ।তারাশঙ্করের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের পূর্ব পুরুষ জমিদার হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন নিঃসন্তান ছিলেন। পরে ফুল্লরা মন্দিরে সাধনা করতে আসা তান্ত্রিক রামজি গোঁসাই হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী প্রভাবতী দেবীকে উপায় বাতলে দেন। নিদান দেন যে, আশ্বিন মাসে দুর্গাদুর্গাপুজো” করতে হবে|নিদান মেনে পুজো সারেন হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী প্রভাবতী দেবী। শোনা যায়, তার পরের বছরই জন্ম হয় তারাশঙ্করের ।তাঁর জন্মের পরই তারা মায়ের মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করা হয় লাভপুর গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তের একটি মাঠে। সেই থেকে বছর বছর সেখানে পুজো হয়ে আসছে। আজ পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এখানে তারা মা, নীল সরস্বতী রূপে পূজিত হন। বর্তমানে মাঠটি তারামা ডাঙা নামে পরিচিত। নামের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই এখানে দেবীর গায়ের রঙ নীল। সারা দেহে জড়ানো থাকে সাপ। প্রতিমার পরনে থাকে বাঘ ছাল, মাথায় গেরুয়া জটা, গলায় মুণ্ডমালা এবং হাতে কৃপাণও থাকে।তারাশঙ্করের লেখায় বার বার ঘুরেফিরে এসেছে এই পুজোর কথা|আজও সন্ধের দিরে পুজো শুরু হলেও, তা চলে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত। পুজোর পাশাপাশি চলে হোম-যজ্ঞও। তারাশঙ্কর যত দিনে জীবিত ছিলেন, তিনি পুজো করিয়ে গিয়েছেন নিয়ম করে। তাঁর লেখা ‘গণদেবতা’, ‘ধাত্রীদেবতা’, ‘কবি’-সহ বিভিন্ন উপন্যাসে তারা মায়ের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে বিভিন্ন ভাবে। ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের কথা নিয়ে|সঙ্গে থাকবে আরো অনেক অলৌকিক ঘটনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|