সিদ্ধিদাতা গণেশ ও চন্দ্রদেব

66

গণেশ পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ বিঘ্নহর্তা গণেশদেবকে নিয়ে বেশ কয়েকটি পৌরাণিক ঘটনা আপনাদের বলবো|চন্দ্র দেব ও গণেশ ঠাকুর এর একবার দ্বন্দ্ব বেঁধে ছিলো|ভোজ সভায় কুবেরকে শিক্ষা দেয়ার ঘটনা আপনাদের আগেই বলেছি সেখানে তার ইচ্ছামত খাওয়ার ফলে গণেশের পেটটি তিনি যখন তিনি হাঁটতে শুরু করলেন তখন তিনি তার ভারসাম্য হারালেন এবং পড়ে গেলেন।চন্দ্র দেব আকাশ থেকে গণেশের এই সকল কাণ্ডকারখানাগুলি দেখছিলেন, তিনি হেসে উঠলেন। চাঁদের এই অবমাননা গণেশ বরদাস্ত করলেন না, তিনি প্রচন্ড ক্ষোভে চন্দ্র দেবকে আঘাত করলেন এবং সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য করে দিলেন।অনুতপ্ত ও পরাজিত চন্দ্রদেব চন্দ্র এই ঘটনায় নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং গণেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।তার বারংবার ক্ষমা প্রার্থনার ফলে গণেশ তখন তাকে মুক্তি দিলেন এবং তার জন্য একটি সময়চক্র তৈরী করলেন যাতে প্রতি দিন অন্তর অন্তর চন্দ্র একবার সম্পূর্ণরুপে প্রকাশিত হবেন এবং একবার করে অদৃশ্য থাকবেন।সেই থেকে নির্ধারিত হয় চন্দ্রের অমাবস্যা ও পূর্ণিমা এবং গ্রহনের রীতি|আবার অন্য একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে দেবী পার্বতী একবার কৈলাসে গনেশের প্রিয় খাদ্য মোদক বানিয়ে ছিলেন।খাদ্য রসিক গণেশ ঠাকুর যত বেশি সম্ভব মোদক খেয়ে ফেলেছিলেন।তারপর তার বাহন ইঁদুরের পিঠে চেপে বেড়াতে বেরোলেন এমনিতেই তার বাহন ইঁদুরটি মোদক পরিপূর্ণ গণেশের ভার বহন করতে পারছিল না এমন সময়ে হঠাৎ করে একটি সাপ ইঁদুরটির সামনে এসে উপস্থিত হয়।ইঁদুরটি ভয় পেয়ে যায় এবং গণেশ তার পিঠের উপর থেকে পড়ে যায়।গণেশ মাটিতে আঘাত পাওয়ার সাথে সাথেই সমস্ত মোদক গুলি তার পেট থেকে বেরিয়ে আসে।গণেশ সেগুলিকে তুলে পুনরায় গিলে ফেলেন আর যাতে সেগুলি তার পেট থেকে না বেরিয়ে আসে সেই জন্য সেই সাপটিকে দিয়ে কোমরবন্ধন করে ফেলেন।সেই জন্য বেশ কিছু মূর্তিতে গণেশের পেটে একটি সাপের বাঁধন দেখতে পাওয়া যায়।আকাশ থেকে সমগ্র বিষয়টি দেখে চন্দ্র দেব হেসে ফেলেন এবং গনেশ এতে প্রচণ্ড রেগে যান এবং চন্দ্র দেবতাকে অভিশাপ দিয়ে বলেন গণেশ চতুর্থীর দিন চন্দ্রকে দেখতে পাবেন না যদিও বা কেউ চন্দ্রকে দেখেন তা অশুভ বলে চিহ্নিত হবে|গণেশ চতুর্থী অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি ও যাদেরবাড়িতে নেতিবাচক শক্তি আছে বা সব কাজেবাধা আসে চাকরিতে বাধা, পারিবারিক অশান্তি, দাম্পত্য কলহ ইত্যাদি সমস্যা থাকলে গণেশ আরাধনা অবশ্যই করুন|আপনাদের আগেই বলেছি আজ গণেশ চতুর্থী তে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ গণেশ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিকারপ্রদান করা হবে আপনার চাইলে এই আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতে পারেন|আপনাদের সবাইকে জানাই গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|