পুরান কথা – গণেশ ও বিষ্ণুর শঙ্খ

82

আগামী 31 আগস্ট গণেশ চতুর্থী|গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আগামী আজ থেকে তিন দিন সিদ্ধি দাতা গণেশ কে নিয়ে কিছু পৌরাণিক ঘটনা ও তার পুজোর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা সহ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো|আজকের পৌরাণিক ঘটনা ভগবান বিষ্ণুর শঙ্খ নিয়ে|ভগবান বিষ্ণুর প্রিয় শঙ্খটির কথা সকলেই জানেন যেটিকে তিনি সর্বদা তাঁর নিজের কাছে রাখতেন।একদিন তিনি তাঁর প্রিয় শঙ্খটিকে কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না।এই বিষয়টি তাকে খুবই মর্মাহত করে তুলল, তিনি তার সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করলেন শঙ্খটিকে খুঁজে বের করার জন্য।যখন শঙ্খ খোঁজাখুঁজির পালা চলছিল তখন ভগবান কৃষ্ণ হঠাৎ করে সেই শঙ্খটির আওয়াজ শুনতে পেলেন কিছুটা দূর থেকে এবং সেই শব্দ শুনে সেটি কোন দিক থেকে আসছে তার অনুসন্ধান করে তিনি অনুধাবন করলেন যে শব্দটির উৎস হল কৈলাস পর্বত।তিনি কৈলাস পর্বত চলে এলেন এবং দেখতে পেলেন স্বয়ং গণেশ সেই শঙ্খটিকে ফুঁ দিয়ে বাজাতে ব্যাস্ত।তিনি জানতেন গণেশ সহজে নমনীয় হওয়ার পাত্র নন, তাই তিনি সেটি ফেরত পাওয়ার জন্য দেবাদিদেব শিবকে বললেন যাতে তিনি গণেশকে শঙ্খটি ফেরত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।শিব জানালেন যে তাঁরও ক্ষমতা নেই গণেশের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করার এবং তাঁকে প্রশমিত করার একমাত্র পথ হল গণেশের পূজা করা।তাই বিষ্ণু গণেশের পূজা করতে উদ্যোগী হলেন।তিনি পূজার সমস্ত উপকরণ দিয়ে শ্রী গণেশকে হৃদয় থেকে আহ্বান করলেন।এটি দেখে গণেশ অত্যন্ত প্রীত হলেন এবং বিষ্ণুর শঙ্খটিকে তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন।তার মানে ভগবান বিষ্ণু স্বয়ং নিজের হারানো সম্পদ ফিরে পেতে গণেশ আরাধনা করেছিলেন এথেকে বোঝা যায় সিদ্ধিদাতা গণেশ পুজোর মাহাত্ম ও তার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব কত বেশি|আগামী 31 আগস্ট গণেশ চতুর্থী তে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ গণেশ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিকার প্রদান করা হবে কারন এই তিথি অত্যান্ত শুভ ও কার্যকরী|আপনার চাইলে এই আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতে পারেন|আবার ফিরে আসবো গণেশ প্রসঙ্গ নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|