অমাবস্যা, তন্ত্র ও জ্যোতিষ শাস্ত্র

56

গতকাল আপনারা মা হৃদয়েশ্বরী মন্দিরে বিশেষ পুজো হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন দেখেছেন পঞ্জিকা মতে আজও থাকছে কৌশিকী অমাবস্যা|আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো অমাবস্যা, তন্ত্র ও জ্যোতিষ শাস্ত্র সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ব্যাখ্যা|যুগ যুগ ধরে জ্যোতিষ ও তন্ত্রে শাস্ত্রে অমাবস্যা তিথির গুরুত্ব অপরিসীম|মনের কথার আজকের পর্বে ব্যাখ্যা করবো জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে কেনো অমাবস্যা এতো গুরুত্বপূর্ণ|প্রথমে জানা দরকার এই অমাবস্যা তিথি কি|শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষ এক মাসের দুটি অংশ রয়েছে। শুক্লপক্ষে চন্দ্রের শিল্পকলা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ চন্দ্র বৃদ্ধি পায়। কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্র বক্ররেখা এবং অমাবস্যায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। চাঁদের ষোলটি কলার মধ্যে ষোড়শ শিল্পকে অমা বলা হয়। তাই এই তিথি অমাবস্যা নামে পরিচিত।স্কন্দ পুরাণ অনুসারে অমাবস্যা সংক্রান্ত একটি শ্লোকে বলা হচ্ছে|’আমা শোভাগইন দেবী প্রক্ত মহাকালসংস্থিতা পরমা মায়া দেহিনাম দেহধারিনী।’এই শ্লোক অনুসারে, আমা চাঁদ দ্বারা উপাসনা করা হয়, এটি চাঁদের সমস্ত ষোলো কলার শক্তি অন্তর্ভুক্ত করে। এই শিল্প ক্ষয় এবং উত্থান হয় না। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে যখন সূর্য ও চাঁদ কোনও কোনও রাশিতে থাকে, তখন অমাবস্যা তিথি সৃষ্টি হয়|শাস্ত্রে অমাবস্যা তিথির কর্তা পিতৃদেব বলে বিশ্বাস করা হয়। সুতরাং, অমাবস্যায় পিতৃগণের সিদ্ধির জন্য তর্পণ, শ্রদ্ধা কর্ম ও দান করা গুরুত্বপূর্ণ। অমাবস্যায় পবিত্র নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভের সম্ভাবনা। এছাড়া যেকোনো তন্ত্রের কাজ এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন এই সময়ে করলে তা অনেক বেশি সফল এবং কার্যকর হয়|শাস্ত্র মতে যেকোনো রকম প্রতিকার ধারণের জন্যে এই সময় শ্রেষ্ট সময়|আবার সারা বছরের অমাবস্যা তিথি গুলির মধ্যে কয়েকটি অমাবস্যা অত্যাধিক গুরুত্ব নিয়ে আসে বিশেষ করে জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতের ক্ষেত্রেযেমন কৌশিকী অমাবস্যা, ফল হারিনী অমাবস্যা, দীপান্বিতা অমাবস্যা এবং মৌনী অমাবস্যা|কিছু তন্ত্র মতে কৌশিকী অমাবস্যার রাতকে তারা রাত্রিও বলা হয়। এ দিন এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দ্বার মুহূর্তের জন্য উম্মুক্ত হয় এবং এই সময়ে তন্ত্র মতে বহু অসাধ্য সাধন সম্ভব হয় আবার ফল হারিনী অমাবস্যায় শাস্ত্র মতে মা কালীকে সন্তুষ্ট করে যেকোনো অশুভ কর্মফল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব|দীপান্বিতা অমাবস্যা আমরা দীপাবলি হিসেবে পালন করে থাকি যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয় লাভের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়|মৌনী অমাবস্যাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়|এই অমাবস্যায় মৌন থেকে নিজের মনকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে শক্তি সাধনা করতে হয়|এবার তন্ত্র সম্পর্কে একটু বলে নেয়া দরকার ,তন্ত্র শব্দটির অর্থ ব্যাপক । সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম “। মহাদেব বা শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের উৎপত্তি । সতী বা দেবি দূর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা |এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই অনেকটা তন্তশাস্ত্র গড়ে উঠেছে|তন্ত্রের বিষয়টা অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত সাধারনভাবে, তন্ত্র অসীম জ্ঞানের আধার|তন্ত্র জ্ঞানচক্ষু উম্মোচন করে ।সৃষ্টির কারন বুঝতে সাহায্য করে তন্ত্র । তন্ত্র সৃষ্টি , স্থিতি ও বিনাশের পরিচালনা শক্তি । ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর এই তিন শক্তির পরিচালনা নিয়ম ব্যাক্ত করে তন্ত্র ।তন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত আছে মন্ত্র ,যন্ত্র|এই তন্ত্র মন্ত্র এবং যন্ত্র তিনটিই একত্রে ব্যবহিত হয় জ্যোতিষ শাস্ত্রে শাস্ত্রীয় প্রতিকার রূপে এবং এক্ষেত্রে তিথি ও নক্ষত্র অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে|যেহেতু তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতে শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন একটি অতি পরিচিত ও শক্তি শালী পন্থা এক্ষেত্রে এবং অমাবস্যা তিথি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাই প্রতিটি অমাবস্যায় আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে বিশেষ পুজো হোম যজ্ঞ ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের সু ব্যবস্থা থাকে আগামী সকল অমাবস্যা তেই এই পরম্পরা অনুসরণ করা হবে |আপনারা নিজেদের ভাগ্যবিচার ও গ্রহদোষ থেকে মুক্তি পেতে এই গুরুত্বপূর্ণ তিথি গুলিকে কাজে লাগাতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|দেখা হবে আগামী পর্বে |ধন্যবাদ|