মাহেশের রথের অলৌকিক ঘটনা

119

আজ বলবো বিখ্যাত মাহেশ এর রথের কথা|পুরীর পরেই শ্রীচৈতন্য ও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের স্মৃতি বিজড়িত দ্বিতীয় বৃহত্তম ও প্রাচীন রথোৎসব হয় শ্রীরামপুরের এই মাহেশেই।রাধারানী’ উপন্যাসে মাহেশের রথের কথা লিখেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।কবে কিভাবে শুরু হয়েছিলো এই প্রাচীন রথ যাত্রা তা সঠিক ভাবে জানা না গেলেও কিছু কিছু ইতিহাস জানা যায়|শ্রীরামকৃষ্ণের অন্যতম পার্ষদ কলকাতার শ্যামবাজার নিবাসী বলরাম বসুর পিতামহ ছিলেন কৃষ্ণরাম বসু। তিনি একটি সুদৃশ্য উচ্চ কাঠের রথ করিয়ে দেন মাহেশ রথ যাত্রার উদ্দেশ্যে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে। কালের নিয়মে এটি নষ্ট হয়ে যায়। কৃষ্ণরাম বসুর পুত্র গুরুপ্রসাদ বসু। তিনি আবার রথটি নির্মান করে দিলেন ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে। এবার রথটি অগ্নিদগ্ধ হল। ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় একটি নতুন রথ নির্মান করিয়ে দিলেন কালাচাঁদ বসু। এক সময় ওই রথটিতে জনৈক ব্যাক্তি মারা যান গলায় দড়ি দিয়ে। ফলে অপবিত্র জ্ঞানে পরিত্যক্ত হল সেটি। ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে আবার একটি রথ তৈরি করিয়ে দিলেন বিশ্বম্ভর বসু। এমনই কপাল জগন্নাথের, সেটিও একদিন অগ্নিদাহে ভস্মীভূত হল। এরপর আর কাঠের নয়, তৈরি হল লোহার রথ। বর্তমানে সেই রথই চলছে যা 1885 সালে নির্মিত হয়েছিলো|মাহেশের রথ নিয়ে একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে|শোনা যায় একবার রথ যাত্রার সময়ে স্থানীয় এক মিষ্টির দোকানে হাজির হলো এক বালক|সে জিলিপি খেতে চাইলো কিন্তু তার কাছে অর্থ নেই|বালক তার হাতের বালা খুলে তার বিনিময়ে জিলিপি ক্রয় করতে চাইলে দোকানদার প্রথমে রাজি হলোনা|পরে বালকের জেদের কাছে হার মানলেন তিনি এবং বালা নিয়ে জিলিপি দিলেন|বালক জিলিপি নিয়ে চলে গেলো|রথ যাত্রার সময় প্রধান পুরোহিত লক্ষ্য করলেন প্রভু জগন্নাথ এর হাতে একটি বালা নেই|চিন্তায় পড়লেন তিনি|অনেক ভেবেও বুঝতে পারলেন না কোথায় গেলো প্রভুর হাতের বালা|রাতে স্বয়ং জগন্নাথ তার স্বপ্নে দেখা দিলেন এবং বললে যে তিনি নিজে বালা জোড়া মিষ্টির দোকানে দিয়ে তার বিনিময়ে জিলিপি খেয়েছেন|পরদিন সকালে পুরোহিত লোক জন নিয়ে সেই মিষ্টির দোকানে গেলেন এবং বালা জোড়া উদ্ধার করলেন|সবাই অবাক হয়েছিলো প্রভু জগন্নাথ এর অদ্ভুত লীলার কথা জানতে পেরে|আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে প্রভু জগন্নাথ ও তার রথ যাত্রা নিয়ে আলোচনায়|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|