পুরান কথা – বৃন্দাবনে কৃষ্ণের অদ্ভুত লীলা

45

আজ পুরান কথায় আপনাদের ভগবান কৃষ্ণের এক অদ্ভুত লীলার কথা বলবো যা ঘটেছিলো বৃন্দাবনে|প্রকৃত সাধক মানেই তিনি ভগবানের প্রতি সদা আস্থাশীল ও সম্পূর্ণ রূপে নিবেদিত প্রাণ এমনই এক জটাধারী সাধুর জটা একবার বৃন্দাবনের পথে চলার সময় বৃক্ষের জটায় আটকে যায়। অনেক চেষ্টা করেও ঐ জটার প্যাঁচ কিছুতেই খুলতে পারলেন না এবং তখন তিনি আসন করে ওখানে বসে পড়লেন যারা সাহায্য করতে এগিয়ে এলো তাদের তিনি বললেন যিনি এই জটার প্যাঁচ লাগালো, তিনি এই জটারসপ্যঁচ খুলতে আসবে,তো ঠিক আছে। যদি না আসে আমি এখানে আসন করে বসে থাকব।তাতে যদি প্রাণ ত্যাগ করতে হয় তো তাই হোক|তিনদিন এমন করে মহাত্মাজী বসে রইলেন|তিন দিন পর এক শ্যামল সুন্দর রাখাল ছেলে এল। বালক বড় আদর করে বলল, বাবা তোমার তো জটা প্যাঁচ লেগে গেছে |আমি জটা খুলে দেব| আর যেই সেই বালক জটা খোলার জন্য এগিয়ে এল|সাধক বাঁধা দিয়ে বললেন যে জটা গাছের সাথে জড়াল সে এসে এই প্যাঁচ খুলবে। তা না হলে এখানে বসে গোবিন্দ নাম নিয়ে প্রাণ দিয়ে দেব। রাখাল ছেলে বলল- “আরে মহারাজজী যে এই কাজটা করল তার নাম তো বলুন, ওকে আমি খুঁজে ডেকে নিয়ে আসি।” সাধক বললেন যে সে আপনা আপনি এসে যাবে, ডাকতে হবে না। তুমি যাও|বালক তখন মৃদু হেসে রাখাল বেশ ত্যাগ করে বাঁকেবিহারী রূপে প্রকট হলেন এবং ভক্তর উদ্দেশ্যে বললেন মহাত্মাজী আমিই তো এই জটার প্যাঁচ লাগালাম। আমি তো এসে গেলাম। এখন জটা খুলে দিই এই বলে কৃষ্ণ স্বয়ং হাত বাড়ালেন মহাত্মাজী বললেন আমি তো নিত্য নিকুঞ্জবিহারীকৃষ্ণের পরম উপাসক|তুমি কি সে?কিন্তু তিনি তো শ্রীরাধারাণীকে বিনা এক মূহুর্ত থাকতে পারে না। কিন্তু তুমি বিহারীজী একা একলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছ।মহাত্মাজী এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে শ্যামের কাঁধে উপরে শ্রীজী রাধারানীর মুখ দেখতেপেলেন অর্থাৎ শ্রীরাধারানী নিজের প্রিয়তম শ্যামের পাশে এসে মহাত্মাকে সাক্ষাৎ দর্শন দিলেন আর আরাধ্য ভগবানের দর্শন পেয়ে মহাত্মাজী আনন্দে বিভোর হয়ে গেলেন তার চোখ দিয়ে অশ্রুধারা পড়তে লাগল।তিনি বুঝলেন রাধা ও কৃষ্ণ আলাদা নয় এক ও অভিন্ন| রাধাকৃষ্ণ তার জটার প্যঁচ খুলে দিল।সাধক তার সর্বস্ব কৃষ্ণের চরনে নিবেদন করে বৈকুণ্ঠ লোকে স্থান পাওয়া নিশ্চিত করলেন|আবার আগামী দিনে ফিরে আসবো এমনই কোনো অদ্ভুত লীলা প্রসঙ্গ নিয়ে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|