পুরান কথা – মায়া সীতা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
রামায়নের গল্প কম বেশি আমরা সবাই জানি। রাম সীতার বনবাস। রাবন কতৃক সীতা হরণ। সীতার অগ্নি পরীক্ষা। এসবই বহুবার শোনা। কিন্তু কিন্তু রামায়ণের একটি অন্য পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে যেখানে বলা হচ্ছে আসল সীতা নয় মায়া সীতা রামের সঙ্গে বন বাসে গেছিলেন। আজ এই মায়া সীতা কে নিয়ে লিখবো।
আধ্যাত্ম রামায়ণ অনুসারে আসলে সীতা ছিলেন পবিত্রতা এবং আদি শক্তির প্রতীক। যেহেতু বনবাস, সীতা হরণ, অগ্নি পরীক্ষা সবই পূর্ব নির্ধারিত ছিলো তাই এই সব কিছু থেকে দেবী সীতাকে দুরে রাখতে আগেই সীতার এক প্রতিরূপ বানিয়ে ছিলেন অগ্নি দেব।
ঠিক হয় আসল সীতার বদলে মায়া-সীতা রামের সঙ্গে বনে থাকবেন এবং শ্রীরাম যতদিন বনবাসে থাকবেন, এই মায়া-সীতা তাঁর সঙ্গে বনে থাকবেন, আর আসল সীতা অগ্নি দেবের কাছে সুরক্ষিত থাকবেন। অর্থাৎ রাবনের কুনজর মায়া-সীতার উপর পড়লেও সীতার পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
যথা সময়ে মাতৃ আজ্ঞা পালনের জন্য রাম বন বাসে গেলেন।আসল সীতার বদলে মায়া-সীতা রামের সঙ্গে বনে থাকতে শুরু করলেন।তারপরের ঘটনা রামায়ণ থেকে আমরা সবাই জানি কিভাবে রাবণের বোন শূর্পনখা সীতাকে বিরক্ত করতে শুরু করল। লক্ষ্ণণ শূর্পনখার নাক-কান কেটে দিলেন। অপমানিত শূর্পনখা রাবণের কাছে গেল। বোনের কথা শুনে রেগে গিয়ে রাবণ নিজের মামা মারিচের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সীতাকে অপহরণ করে লঙ্কাপুরী নিয়ে গেলেন।জটায়ু প্রান দিলেন। রাম বানর বাহিনী নিয়ে লঙ্কা জয় করে সীতাকে উদ্ধার করলেন।
বনবাস কাটিয়ে যখন অযোধ্যায় ফিরে আসলেন রাম ও সীতা তখন সীতাকে নিজের পবিত্রতা প্রমাণ করতে অগ্নি পরীক্ষা দিতে হলো এবং যথা সময়ে মায়া সীতা আগুনে প্রবেশ করলেন। সকলে আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে। সেই সময় অগ্নিদেব তাঁকে আসল সীতার সঙ্গে বদলে দিলেন। অগ্নিকুণ্ড থেকে সুরক্ষিত অবস্থায় বেরিয়ে এলেন আসল সীতা।
ফিরে আসবো পুরান কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে আবার আগামী পর্বে। চলতে থাকবে
ধারাবাহিক পুরান কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
