মৎস পুরান এবং মহা প্রলয়
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
মৎস অবতার বিষ্ণুর প্রথম অবতার আর সেই অবতার নিয়েই মৎস পুরান তাই নানা দিক থেকে এই পুরান টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ |মৎস্য পুরাণ অনুযায়ী প্রথম মহাপ্রলয়ের সময় জীবকুলকে রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু মৎস অবতার রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
মৎস পুরান তিনটি কারনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত মহাপ্রলয়ের বর্ণনা। দ্বিতীয়ত বাস্তু দেবের জন্ম এবং সব শেষে বিষ্ণুর হয়গ্রীব অবতারের কথা।আজ মহা প্রলয় এবং রাজা
সত্যব্রতকে নিয়ে লিখবো।
আজ থেকে বহু যুগ আগে দক্ষিণ ভারতে দ্রাবিড়দের রাজা ছিলেন সত্যব্রত। তিনি ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর উপাসক। একদিন নদীর জলে হাত ধোয়ার সময় একটি ছোট্ট মাছ রাজা সত্যব্রতর হাতে উঠে আসে। রাজা মাছটিকে বাড়িতে এনে একটি পাত্রের মধ্যে রাখেন। দু-একদিনের মধ্যে অস্বাভাবিক ভাবে মাছটি বড় হতে থাকে। তখন রাজা সত্যব্রত মাছটিকে একটি পুকুরে ছেড়ে দেন। কিন্তু মাছের আকার বাড়তেই থাকে। পুকুরে তার স্থান সঙ্কুলান হয়ে পড়লে প্রথমে নদীতে এবং পরে মাছটিকে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়। সমুদ্রে গিয়ে মাছটি আরো দ্রুত গতিতে বড় হতে শুরু করে। রাজা সত্যব্রতের মনে হল এ কোনো সাধারণ মাছ নয়। তিনি হাত জোড় করে মাছটির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন সেই রহস্যময় মাছটি ভগবান বিষ্ণুর রূপ ধারণ করে সত্যব্রতকে বললেন, হে রাজন, আর সাত দিন পরেই পৃথিবীতে মহাপ্রলয় ঘটবে। তুমি একটি বড় নৌকা তৈরি করো। তাতে সপ্তার্ষি সহ সকল প্রকার ওষধি, সমস্ত রকমের বীজ, সপ্ত ঋষি, চতুর্বেদ, বাসুকি নাগ ও অন্যান্য সকল প্রণীদের উঠিয়ে নিয়ে নৌকায় অপেক্ষা করো।রাজা তাই করলেন অক্ষরে অক্ষরে |
কথা মতো নির্দিষ্ট দিনে মহা প্রলয় শুরু হল। সাগর উত্তাল হলো, প্রকৃতি ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ংকরতর হতে শুরু করল। ঠিক তখনই মৎস্যরূপী বিষ্ণু নৌকার সামনে উপস্থিত হলেন। তার নির্দেশ মতো বাসুকি নাগকে দিয়ে নৌকাটিকে মাছের সাথে বেঁধে দেওয়া হল। নিপুন দক্ষতায় নৌকাটিকে টেনে নিয়ে গিয়ে মৎস্যরূপী বিষ্ণু বাসুকি নাগকে মলয় পর্বতের চূড়ায় বেঁধে দিলেন। মহা প্রলয়ে প্রায় সমস্ত উদ্ভীদ ও প্রাণীকুল বিনষ্ট হল। প্রকৃতির তান্ডব শেষ হলে রাজা সত্যব্রত নৌকা নিয়ে স্থলভাগে ফিরে এলেন। নৌকায় থাকা উদ্ভীদ ও প্রাণীদের বংশ বৃদ্ধি ঘটিয়ে শুরু করলেন এক নতুন সভ্যতা। ইতিহাসে যা আর্য সভ্যতা নামে পরিচিত হল। আর রাজা সত্যব্রত পরিচিত হলেন আর্যপিতা ভগবান মনু রূপে।
ফিরে আসবো পুরান কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। এমন বহু পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে চলবে
পুরান কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
