পুরান কথা – কাক ভূষন্ডি
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
সাধারণত দীর্ঘ জীবন প্রাপ্ত ব্যক্তিকে ভূষন্ডির কাক বলা হয়। এই প্রবাদের সাথে জড়িয়ে আছে কাকভূশুন্ডি নামের এক পৌরাণিক পক্ষী ঋষি। আজ পুরান কথায় জানাবো সেই কাক ভূশুন্ডির কাহিনী।
ত্রেতাযুগে অযোধ্যায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভুশুণ্ডি নামের এক ব্রাহ্মণ। বেদ-উপনিষদের চর্চা আর ভগবান শিবের তপস্যার মাধ্যমে সত্যকে উপলব্ধি করে মোক্ষলাভ করাই ছিলো তার জীবনের লক্ষ্য।
আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং শাস্ত্র অধ্যায়ন করতে লোমস মুনির আশ্রমে যান ভূষন্ডি।কিন্তু কোনো এক কারণে ভুশুন্ডির উপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন লোমস মুনি। আর সেই ক্রোধে তিনি ভুশুন্ডিকে কাক হয়ে যাওয়ার অভিশাপ দিয়ে বসেন। ফলে ততক্ষনাৎ ব্রাহ্মণ যুবক ভুশুণ্ডি পরিনত হলেন কদাকার কাক পক্ষীতে।শুরু হলো তার জীবনের অন্য এক অধ্যায়।
কাক রূপেই সে দেবাদিদেব মহাদেবের তপস্যা চালিয়ে যায় এবং তার তপস্যায় সন্তুষ্ট হলেন ভগবান শিব। শিব তাঁকে দেখা দেন এবং অমরত্ব, অসীম জ্ঞান ও সময়চক্রের উর্দ্ধে উঠে সৃষ্টিচক্র অবলোকন করার বর দেন।
সেই থেকে যুগ যুগ ধরে তিনি স্বমহিমায় বিরাজমান এবং পৌরাণিক ঘটনার সাক্ষী।
রামায়ণ, মহাভারত সহ একাধিক ভগবানের দিব্য লীলার তিনি সাক্ষী।তিনি রাম অবতার এর সন্ন্যিধ্যও পেয়েছেন আবার কৃষ্ণের লীলাও দেখেছেন।আবার দক্ষ যজ্ঞওতেও তিনি ছিলেন নীরব দর্শক।
কিছু শাস্ত্র মতে কাকভুশুন্ডি ছিলেন গরুড়দেবের শিক্ষক। তিনি গরুড়দেবের কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন ভক্তি এবং জ্ঞানের পথ।
পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে কাকভুশুন্ডি আজও জীবিত আছেন এবং আজও জ্ঞান চর্চা বা আধ্যাত্মিক সাধনা করে চলেছে।তিনি অমর এবং পরম জ্ঞানের অধিকারী।
ফিরে আসবো পুরান কথার পরের পর্ব নিয়ে।
থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক চরিত্র এবং ঘটনা নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
