গুরু কথা – শ্রী শ্রী মা সারদা

5

গুরু কথা – শ্রী শ্রী মা সারদা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের গুরু কথার এই পর্বে লিখবো মা সারদাকে নিয়ে।গুরু শব্দের অর্থ অজ্ঞানতার অন্ধকার দুর করে জ্ঞানের আলো দান করেন এমন ব্যক্তিকে বোঝায়। সেই অর্থে সারদা মা ছিলেন

প্রকৃত গুরু। যদিও বিশ্বের কাছে তিনি গুরু পত্নী বা সংঘ জননী হিসেবেই বেশি পরিচিতা।

 

মা সারদা বলতেন আমি কথার কথা মা নই আমি সত্য জননী। বাস্তবেও ছিলো তাই। তা ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়।

 

একবার মা তার ভক্ত আমজাদকে নিজের হাতে খেতে দিয়েছিলেন, এমনকী খাওয়া শেষে এঁটো থালা পরিষ্কার করতেও তাঁর কোনও দ্বিধা ছিল না। আমজাদের পরিচয় সম্পর্কে মাকে মনে করিয়ে দেওয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার শরৎ যেমন ছেলে, ওই আমজাদও তেমন ছেলে’, এখানে শরৎ, অর্থাৎ পরবর্তী কালে স্বামী সারদানন্দ মহারাজ।এই সামান্য ঘটনাটির তাৎপর্য মোটেও সাধারণ নয়। আজকের এই জটিল আর্থ-সামাজিক দুনিয়ায়, যেখানে অসহিষ্ণুতার একটা বিষময় বাতাবরণ, সেখানে মা সারদার এই সহজ অভিব্যক্তিটা খুব বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়।

 

আজও আমরা সর্বস্তরে জাতপাতের সীমানা লঙ্ঘন করতে পারছি না। আমরা সবাই এক এবং অভিন্ন, এই শাশ্বত বোধ আমাদের সবার মধ্যে আসছে না|কিন্তু পথ দেখাতে পারেন মা সারদা ও তার ত্যাগ এবং আদর্শ যিনি সেই যুগে দাঁড়িয়ে প্রকৃত সমাজসেবী হিসেবে এক বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন, ‘আমরা ওরা’র বন্ধন।মা সারদা প্রকৃত অর্থেই হয়ে উঠেছিলেন সৎ এর ও মা আবার অসৎ এর ও মা|

তার কাছে নরেন ও যা রঘু ডাকাত ও তাই|

 

প্রতিটি মানুষকে নিজের মধ্যে দেবতাজ্ঞানে গ্রহণ করতেন। সাড়া দিয়েছেন সবার ডাকে, এমনকী পশুপাখিদেরও সন্তানস্নেহে আপ্লুত করেছেন। তার অলৌকিক সত্ত্বা ভক্তদের থেকে আড়ালে থাকতো।

 

এক বার এক সহজ সরল ভক্ত নিজেকে সংযত করে রাখতে না পেরে মাকে সরাসরি প্রশ্ন করলেন, মা, আপনি কি সাক্ষাৎ মা কালী? সারদা দেবী মৃদু হেসে বলেছিলেন – ওই, লোকে বলে কালী’!

 

ভক্তদের কাছে মা সারদা ছিলেন সাক্ষাৎ জগৎজননী। ঠাকুর রামকৃষ্ণর যদি অবতার হন তাহলে মা সারদা ছিলেন ভগবানের লীলা সঙ্গিনী।

স্বয়ং রামকৃষ্ণ তাকে আদ্যাশক্তি মহা মায়া রূপে দক্ষিনেশ্বরে পূজো করেছিলেন এক ফল হারিণী অমাবস্যা তিথিতে।

 

বিবেকানন্দ সহ অন্যান্য গুরু ভাইরাও মনে করতেন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব যেমন তার অলৌকিক সত্ত্বাকে গোপন করতে পারতেন

তেমনটা সারদা মা পারতেন না বার বার তাঁর অলৌকিক সত্ত্বা প্রকাশিত হতো।

 

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আজ মা সারদাকে স্মরণ করার আলাদা তাৎপর্য আছে কারন সরাসরি স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ না দিলেও সে যুগে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর কাছে তিনি ছিলেন আদর্শ এবং বহু বিপ্লবীর স্নেহের আশ্রয়।

 

আজ গুরু কথায় বিশ্ব জননী, সংঘ জননী মা সারদার চরনে আমার শত কোটি প্রনাম এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই। ফিরে আসবো

গুরু কথার আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।