বিষ্ণু এবং হস্তীরাজ গজেন্দ্র

5

বিষ্ণু এবং হস্তীরাজ গজেন্দ্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী বিষ্ণু নানা সময়ে তাঁর ভক্তদের সাথে নানা রকম লীলা করে থাকেন। পুরানে এমন বহু ঘটনার উল্লেখ আছে। আজ পুরান কথায় আপনাদের বিষ্ণু এবং হস্তীরাজ গজেন্দ্রর গল্প বলবো।

 

ক্ষীরসাগরের তীরে ত্রিকূট পর্বতের কাছে ছিল এক সুন্দর বন—ঋতুমত। সেই বনে ছিল একটি মনোরম পদ্মপুকুর।যেখানে প্রতিদিন হাতির দল জল পান এবং স্নান করতে আসত। তাদের নেতা বা রাজা ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর পরম

ভক্ত গজেন্দ্র।একদিন গজেন্দ্র যখন পুকুরে জলকেলি করছিলেন, তখন হঠাৎ এক প্রকান্ড কুমির তাঁর একটি পা শক্ত করে কামড়ে ধরে। গজেন্দ্র অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে মুক্ত করতে পারলেন না। দীর্ঘ সময় ধরে চলল তাঁর সঙ্গে কুমিরের লড়াই। ধীরে ধীরে গজেন্দ্র দুর্বল হয়ে পড়লেন।তাঁর সঙ্গীরাও

তাঁকে বিপদে ছেড়ে ছলে যায়।

 

শেষপর্যন্ত গজেন্দ্র বুঝতে পারলেন, নিজের শক্তিতে এই বিপদ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। তখন তিনি ভগবান বিষ্ণুর শরণ নিলেন। পদ্মফুল তুলে তিনি ভগবানকে স্মরণ করে গভীর ভক্তিতে প্রার্থনা করলেন এবং বললেন যে আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন। আর যদি এটাই আমার নিয়তি হয় এই ভক্তের শেষ প্রনাম স্বীকার করুন।

 

গজেন্দ্রের সেই আকুল ডাক ভগবান বিষ্ণুর কাছে পৌঁছাল। ভক্তের বিপদে তিনি আর দেরি করলেন না।বিষ্ণু আবির্ভূত হলেন।সুদর্শন চক্র দিয়ে কুমিরকে বধ করে গজেন্দ্রকে মুক্ত করলেন।

 

তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। বিষ্ণু তাকে ইন্দ্রদুম্ন বলে সম্মোধন করলেন এবং স্মরণ করালেন কিভাবে আগের জন্মে রাজা ইন্দ্রদুম্ন রূপে রাজ সভায় নিজের অজ্ঞাতে তিনি মুনী অগস্তকে অবজ্ঞা করেছিলেন এবং সেই পাপেই এই জন্মে হস্তী হয়ে জন্মে তাকে এই যন্ত্রনা পেতে হলো।

 

এই পুরান কাহিনী আমাদের শেখায়

বিপদের সময় অহংকার নয়, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস এবং আত্মসমর্পণই মানুষের অন্তরে সাহস জাগায়।

ভগবান সর্বদা তাঁর স্মরণাগত ভক্তের পাসে থাকেন।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী পুরান কথা নিয়ে

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।