গঙ্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর দ্বন্দ্ব
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
পুরানে বর্ণিত এক ঘটনা অনুসারে একবার গঙ্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মধ্যে বিবাদ দেখা দেয় এবং তার ফলেই পৃথিবীতে তাঁদের আগমন হয়। আজ পুরান কথায় সেই গল্প আপনাদের বলবো।
পুরানে পাওয়া বর্ণনা অনুযায়ী গঙ্গা ছিলেন অপরূপ সুন্দরী ও আকর্ষণীয়। একদিন বৈকুণ্ঠে ভগবান বিষ্ণুকে একা দেখে তাঁর প্রতি প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করেন গঙ্গা। ঠিক সেই সময় সেখানে উপস্থিত হন দেবী সরস্বতী। গঙ্গাকে বিষ্ণুর এত কাছে দেখে সরস্বতী ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন এবং গঙ্গাকে সরে যেতে বলেন। দুজনের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা।পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন ভগবান বিষ্ণু। কিন্তু দুজনেরই ক্রোধ তখন আর নিয়ন্ত্রণে নেই। দেবী লক্ষ্মী তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও সরস্বতী মনে করেন, লক্ষ্মী গঙ্গার পক্ষ নিচ্ছেন। ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি লক্ষ্মীকে অভিশাপ দেন যে তাঁকে পৃথিবীতে একটি উদ্ভিদরূপে জন্ম নিতে হবে।
অশান্তি আরো তীব্র হয় এবং একটি পর্যায়ে
গঙ্গা ও সরস্বতী পরস্পরকে অভিশাপ দেন। গঙ্গা অভিশাপ দেন যে সরস্বতী পৃথিবীতে একটি নদীরূপে প্রবাহিত হবেন। সরস্বতীও গঙ্গাকে অভিশাপ দেন যে তাঁকে পৃথিবীতে নদীরূপে প্রবাহিত হয়ে মানুষের পাপ ও মৃতদেহের ভার বহন করতে হবে।
ভগবান বিষ্ণু সব শুনে মৃদু হাসলেন কারন তিনি জানতেন এই সব অভিশাপ ভবিষ্যতে এক বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণ করবে।তিনি অন্তর্যামী এবং সবই তাঁর লীলা মাত্র।
পরবর্তীতে অভিশাপ অনুসারে লক্ষ্মীর একটি অংশ পৃথিবীতে পবিত্র তুলসী রূপে প্রকাশিত হয় এবং বিষ্ণু নিজেও শালগ্রাম শিলা রূপে তাঁর সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাছাড়া বিষ্ণুর ভোগ তুলসী ছাড়া সম্পন্ন হয়না এ আমরা সবাই জানি।
অন্যদিকে গঙ্গা পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়ে মানুষের পাপ মোচনের পবিত্র সুযোগ করে দেন। মানুষ তাঁকে মা গঙ্গা বলে শ্রদ্ধা করে এবং তাঁর জলে পাপমোচনের বিশ্বাস রাখবে।
সরস্বতীও অভিশাপের ফলে একটি পবিত্র নদীরূপে পৃথিবীতে প্রবাহিত হন।বহু মানুষ তাঁর পবিত্র স্পর্শ পেয়ে ধন্য হন।
এই ভাবে দেব দেবীদের দ্বন্দ্ব এবং অভিশাপের ফল স্বরূপ মর্তে আগমন হয় দুটি পবিত্র স্বর্গীয় নদী এবং তুলসী দেবীর।
ফিরে আসবো পরবর্তী পুরান কথা নিয়ে। থাকবে আরো একটি পুরানের গল্প এবং তার শাস্ত্রীয়
ব্যাখ্যা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
