প্রভু জগন্নাথের ধনদৌলত
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
পুরীর জগন্নাথদেব শুধু তার আহারের বা ভোগের জন্য নয় তার অগাধ সম্পত্তির জন্যও বিখ্যাত। জগন্নাথের ধন দৌলতের তালিকায় রয়েছে
বহু মূল্য হীরে, মূল্যবান অনেক রত্ন, সোনার এবং রুপোর নানা রকম অলংকার।শুধু জগন্নাথ নন বলরাম এবং সুভদ্রার ও রয়েছে নিজস্ব রত্ন ভান্ডার।আজকের পর্বে প্রভু জগন্নাথের সেই বিপুল ধনভান্ডার নিয়ে লিখবো।
সাধারণত মন্দিরে ধন সম্পদের কথা উঠলে তিরুপতি বালাজি বা পদ্মনাভ মন্দিরের কথা ওঠে তবে জগন্নাথ ও কম যান না ধন দৌলতের দিক দিয়ে। পুরীর মন্দিরের অভ্যন্তরে কয়েকটি বিশেষ কক্ষে এই অতুল ঐশর্য রাখা আছে। সেখানে বাইরের কারুর প্রবেশের অধিকার নেই।বিশেষ
কারণে প্রবেশ করতে হলে লাগে বিশেষ রীতি নীতি। পালন করতে হয় কিছু শাস্ত্রীয় রীতি নীতি।
বিশেষ বিশেষ সময়ে প্রভুর মাথায় ব্রহ্মজ্যোতি হীরা শোভা পায়।সেই হীরের জ্যোতি কি কেউ খালি চোখে সইতে পারেনা।এছাড়া বলরামের মাথার নীলা বা সুভদ্রার মাথার মানিক, সবই রত্নভান্ডারে গচ্ছিত আছে।বিশেষ বিশেষ সময়ে প্রভুকে সোনার গয়নায় সাজানোর জন্য তার রত্ন ভান্ডার থেকে গহনা বের করে আনা হয় তবে তারও একটা নিদ্দিষ্ট পক্রিয়া আছে।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সিংহদুয়ারের ঠিক সামনে ইমার মঠ। সেখান থেকে একাধিক বার উদ্ধার হয়েছে গুপ্তধন।২০১১-তে ও ২০২১-এ পরপর দু’বার এই মঠ থেকে পাওয়া যায় কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।উদ্ধার হয় প্রায় ৫০০ রূপোর বাট।
জগন্নাথ শুধু ওড়িশা বা ভারত নয় সমগ্র জগতের নাথ। বহুবার বহু রাজা তার চরণে নিজের মূল্যবান ধন সম্পদ অর্পণ করেছেন। আবার জগন্নাথের ধন দৌলত লুট করার ও চেষ্টা হয়েছে বিদেশী শত্রুদের দ্বারা। তবে প্রায় প্রতিবার অলৌকিক উপায়ে রক্ষা পেয়েছে জগন্নাথের ধন দৌলত।
প্রভু জগন্নাথের সব চেয়ে মূল্যবান এবং আলোচিত সম্পদ হলো জগৎ বিখ্যাত কোহিনুর হীরা যা খাতায় কলমে জগন্নাথ দেবের সম্পত্তি হলেও তা আজও জগন্নাথ দেবের অধিকারে আসেনি। কারন কোহিনুরের মালিক মহারাজা রঞ্জিত সিংহ জগন্নাথ দেব কে কোহিনুর অর্পণ করার কথা ঘোষণা করলেও কোহিনুর জগন্নাথ চরণে অর্পণ করার আগেই তার মৃত্যু হয় এবং কোহিনুর চলে যায় ব্রিটিশ সরকারের হাতে।
তবে সমগ্র জগৎ সংসারের সম্পূর্ণ ঐশর্যর অধিকারী প্রভু জগন্নাথ তাই তার জাগতিক সম্পত্তি কি আছে কি নেই সেটা বড়ো কথা নয়। ভক্তের ভক্তি এবং সেবাই তার কাছে সব চেয়ে দামী এবং কাঙ্খিত।
আসন্ন রথ যাত্রা উপলক্ষে চলতে থাকবে জগন্নাথদেব এবং পুরী ধাম নিয়ে শাস্ত্রীয় আলোচনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
