বীর হনুমান এবং দশানন রাবন

9

বীর হনুমান এবং দশানন রাবন

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

হনূমান জয়ন্তী উপলক্ষে আজ থেকে শুরু করছি রূদ্রঅবতার বজরংবলীকে নিয়ে কয়েকটি পর্বে ধারাবাহিক আলোচনা।আজ লিখবো হনুমান এবং দশানন রাবনের সম্পর্ক এবং এই দুই
চরিত্রকে ঘিরে কিছু পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে।

একবার কৈলাসে নিজের আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেবের দর্শন করতে গিয়ে অহংকারী রাবন
শিবের অনুচর নন্দীকে বানররুপী বলে ব্যঙ্গ করেন এবং অপমান করেন।সেই অপমানে রেগে গিয়ে নন্দী রাবনকে এক বানর দ্বারা পরাস্ত হওয়ার অভিশাপ দেন। পরবর্তীতে হনুমান রাবনের পতনের অন্যতম কারন হন। অর্থাৎ এই পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে রাবনকে দেয়া নন্দীর অভিশাপ সত্যি করতে হনূমানের আবির্ভাব বলাই যায়।

রাবন এবং হনুমান দুই চরিত্রই শিবের সাথে গভির সম্পর্কযুক্ত। রাবন যেমন শিবের শিষ্য এবং শিবের ধ্যান করে তার আশীর্বাদ পেয়ে বলবান হন তেমনই হনুমান স্বয়ং শিবের অংশ। রূদ্র অবতার।
রামায়নের কালে দুই শিব ভক্ত হয়ে ওঠেন একে অন্যের শত্রু। হনূমান থাকেন ন্যায়ের পক্ষে। সত্যর পক্ষে অন্য দিকে রাবন ছিলেন অন্যায় এবং অধর্মর পক্ষে।

শক্তিতে রাবন অতীব বলশালী হলেও হনূমানের ন্যায় ক্ষমতাবান সে যুগে কেউ ছিলোনা। তিনি একাই রাবনকে পরাস্ত করে মা সীতা কে উদ্ধার করতে পারতেন। কিন্তু এই কাজ প্রভু শ্রী রামের কর্তব্য তাই তিনি রামের সেবায় তার দাস হয়ে রয়ে যান।

রাবন পুত্র মেঘনাথ যখন জন্ম গ্রহণ করেন তখন|রাবন চেয়েছিলেন সব গ্রহরা তার অনুকূলে থাকবেন|এমন ভাবে তারা অবস্থান করবেন যাতে মেঘনাথ হবেন অমর ওঅপরাজেয়|
নিজের ক্ষমতার অপব্যাবহার করে রাবন সব গ্রহদের বন্দী করলেন।এমনকি নিজ অহংকার প্রকাশ করতে তিনি গ্রহদের নিজের সিংহাসনে পৌঁছানোর সিঁড়ির ধাপ রূপে ব্যবহার করতেন।
তাদের মাথায় পা রেখে এগিয়ে যেতেন।
স্বর্ণ লঙ্কা জ্বালিয়ে দেয়ার সময় হনূমান গ্রহদের বন্দী দশা থেকে মুক্তি দেন। রাবনের অহংকারের পতন ঘটান।

আগামী পর্বে হনুমান এবং শনি দেবের সম্পর্ক নিয়ে আলাদা করে লিখবো । জানাবো জ্যোতিষ শাস্ত্রে বজরংবলী কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।