শিব মাহাত্ম্য – পঞ্চকেদার রহস্য

4

শিব মাহাত্ম্য – পঞ্চকেদার রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম কেদারনাথ মন্দিরের চারপাশে রয়েছে আরো চারটি প্রাচীন শিব মন্দির এবং এই পাঁচটি শিব মন্দিরকে একত্রে বলা হয় পঞ্চকেদার।আজকের পর্বে জানাবো কি এই

পঞ্চ কেদার এবং কিভাবেই বা সৃষ্টি হয় এই

পঞ্চ কেদারের।

 

পঞ্চ কেদারের রহস্য জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই মহাভারতের যুগে।পাণ্ডবরা কৌরবদের পরাজিত করার পর যুদ্ধের সময় তাদের দ্বারা করা ব্রাহ্মন হত্যার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে দেবাদিদেবের স্মরণ নিতে তারা প্রথমে কাশীতে যান।শিব কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের মৃত্যু এবং অসততার জন্য গভীরভাবে বিরক্ত ছিলেন তাই পাণ্ডবদের দেখা না দিয়ে নন্দীর রূপ ধারণ করেন এবং গাড়ওয়াল অঞ্চলে লুকিয়ে থাকেন। কাশীতে শিবকে না পেয়ে পাণ্ডবরা গাড়ওয়াল হিমালয়ে চলে যান। ভীম গুপ্তকাশীর কাছে একটি ষাঁড়কে ঘুরে বেড়াতে দেখে তার স্বরূপ উপলব্ধি করেন তৎক্ষণাৎ তিনি ষাঁড় রুপী মহাদেবকে বল পূর্বক ধরতে চেষ্টা করেন তবে লেজ আঁকড়ে ধরার সাথে সাথে বীর বিক্রমে হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে অদৃশ্য হয়ে গেলো সেই বিশালাকৃতি ষাঁড় রুপী মহাদেব।

পরে কিছু অংশে আবার আবির্ভূত হলো। পাঁচটি স্থানে প্রকাশ পেলো এই রূপ। এই পাঁচটি স্থানকেই একত্রে পঞ্চ কেদার বলা হয়।

 

কেদারনাথে কুঁজ,বাহুগুলি তুঙ্গনাথে, মুখ রুদ্রনাথে, নাভি এবং পেট মধ্যমহেশ্বর এবং লোমগুলি কল্পেশ্বরে প্রকাশিত হয়েছিল।

পাণ্ডবরা এই স্থানে পাঁচটি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।সেই মন্দিরই পঞ্চ কেদার ধাম রূপে আজও বিরাজমান।

 

প্রতিটি শিব ভক্তের মনের সুপ্ত বাসনা থাকে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের পাশাপাশি এই পঞ্চকেদার দর্শন করে মহাদেবের আশীর্বাদ লাভ করার।শাস্ত্র মতে পঞ্চ কেদার দর্শন করলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয় এবং জন্ম মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ হয়।

 

পাঁচটি মন্দিরে পাঁচজন প্রধান পুরোহিত রয়েছেন এবং তারা এক বছরের জন্য পালাক্রমে প্রধান সেবক হিসেবে কাজ করেন।বছরের একটি দীর্ঘ সময়ে বরফে ঢাকা থাকে এই স্থান। তাপ মাত্রা হিমাংকের নিচে নেমে যায়।তবে এই দুর্গম স্থান হওয়া সত্ত্বেও বহু ভক্ত আসেন প্রতি বছর শিব পুজো করতে।

 

আসন্ন হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে ফিরে আসবো বজরংবলী সংক্রান্ত শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।