যজ্ঞের দেবী স্বাহার উৎপত্তি
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
সনাতন ধর্মে যজ্ঞ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈদিক আচার। যজ্ঞের অগ্নিতে ঘৃত, শস্য, ফল, তিলসহ বিভিন্ন দ্রব্য আহুতি দেওয়া হয় এবং মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে সেই আহুতি দেবতাদের উদ্দেশে নিবেদন করা হয়।এক্ষেত্রে স্বহা শব্দটি একাধিক বার যজ্ঞতে উচ্চারিত হয়। আজ এই স্বাহা আসলে এক
পৌরাণিক দেবী। আজ জানবো তার উৎপত্তির
পৌরাণিক গল্প
পুরান অনুসারে একবার স্বর্গে দেবতারা প্রায় অনাহারে কষ্ট পেতে শুরু করেছিলেন কারন মর্তের যজ্ঞের ফল তাঁদের কাছে যাচ্ছিলো না।
এক সময় অগ্নিদেব ব্রহ্মার কাছে এসে নিজের অসহায়তার কথা জানালেন। তিনি বললেন, মানুষ যজ্ঞে যে সমস্ত আহুতি দেয়, তিনি সেগুলি তিনি গ্রহণ করতে পারেন, কিন্তু সেই আহুতি দেবতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। ফলে দেবতারা আহারের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন।
অগ্নির এই কথা শুনে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাও চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি সমস্যার সমাধানের জন্য বিষ্ণুর পরামর্শ নিলেন। বিষ্ণু তাঁকে প্রকৃতির শক্তির আরাধনা করতে বললেন। কারণ প্রকৃতিই এমন এক শক্তি, যিনি সৃষ্টির বিভিন্ন কার্যকে সম্পূর্ণতা দিতে পারেন।
ব্রহ্মার প্রার্থনায় প্রকৃতি প্রসন্ন হলেন। তাঁর শক্তি থেকে আবির্ভূত হলেন এক অপরূপ দেবী। এই দেবীর বিশেষ দায়িত্ব নিলেন যজ্ঞে নিবেদিত আহুতিকে দেবতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার।
ব্রহ্মা তাঁকে আশীর্বাদ করে বললেন—
“তুমিই এখন আমাদের জীবনরেখা। তোমার মাধ্যমেই পৃথিবী ও স্বর্গের মধ্যে এই পবিত্র আদান-প্রদান সম্পন্ন হবে।”
এই দেবীই হলেন যজ্ঞের দেবী “স্বাহা।”
ঠিক হলো যজ্ঞে অগ্নির উদ্দেশে যে কোনো আহুতি দেওয়ার সময় ‘স্বাহা’ উচ্চারণ করতে হবে। ‘স্বাহা’ উচ্চারণের মাধ্যমে আহুতিটি দেবতাদের উদ্দেশে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত হয়।
সেই থেকে ‘স্বাহা’ ছাড়া যজ্ঞের আহুতি যেন ফলহীন হয়ে পড়ে। যেমন ফলহীন বৃক্ষ, বিষহীন সাপ কিংবা জ্ঞানহীন মানুষ তার পূর্ণতা হারায়, তেমনই ‘স্বাহা’ ছাড়া যজ্ঞও অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
পরবর্তীতে ব্রহ্মা দেবী স্বাহার সঙ্গে অগ্নিদেবের বিবাহ দেন।এই বিবাহের মধ্য দিয়ে অগ্নি এবং
স্বাহা চিরদিনের জন্য একত্রিত হলেন।
ফিরে আসবো পরবর্তী পুরান কথা নিয়ে
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
