দেবী গঙ্গার উৎপত্তি 

7

দেবী গঙ্গার উৎপত্তি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে গঙ্গা কোনো সাধারণ নদী নয়। গঙ্গা এক দেবী।পুরানে দেবী গঙ্গার জন্ম নিয়ে অনেক জনপ্রিয় গল্প আছে।আজ পুরান কথায় দেবী গঙ্গার উৎপত্তি এবং তার মর্তে আগমন

নিয়ে লিখবো।

 

বামন পুরাণ অনুসারে, শ্রী হরি বিষ্ণু যখন তাঁর বামন রূপে তাঁর একটি পা আকাশের দিকে তুলেছিলেন, তখন ভগবান ব্রহ্মা তাঁর পা জল দিয়ে ধুয়ে তাঁর কমণ্ডলুতে ভরেছিলেন। এই পবিত্র জলের তেজ ও শক্তিতে ভগবান ব্রহ্মার কমণ্ডলে দেবী গঙ্গার জন্ম হয়েছিল। এর পর ব্রহ্মা তাকে হিমালয় রাজের হাতে তুলে দেন । সেই থেকে মা গঙ্গা এবং দেবী পার্বতীকে বোন হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

আবার বিষ্ণু পুরাণ অনুসারে, ভগবান বিষ্ণুর পায়ের ঘাম থেকে বা শ্রী চরণ থেকে নিঃসৃত এক বিন্দু জল থেকে গঙ্গার সৃষ্টি হয়েছিল।দেবী স্বেত বর্ণা এবং তার বাহন মকর যা কুমির জাতীয় এক জলজ প্রাণী।

 

গঙ্গার মর্তে আগমনের সময় সম্পর্কে অনেকে মনে করেন অক্ষয় তৃতীয়ায় মর্তে গঙ্গার আগমন হয়।রাজা ভগীরথ তার পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য গঙ্গাকে মর্তে এনে ছিলেন। গঙ্গার প্রবল তেজে পৃথিবী যখন ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয় তখন শিব গঙ্গাকে তার জটায় আশ্রয় দেন। সেই থেকে শিবের জটায় গঙ্গার অবস্থান।

 

রামায়ণ অনুসারে আরেকটি কাহিনি আছে যেখানে বলা হচ্ছে ব্রহ্মা হিমাবত সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি পরে হিমালয়ের রাজা হন এবং মেরু কন্যা মেনকা বিয়ে করেন। বেশ কয়েক বছর পর, তারা একটি কন্যার আশীর্বাদ পেয়েছিলেন যার নাম তারা গঙ্গা রাখেন। কিছু বছর পর, তাদের আরেকটি কন্যা হয়েছিল যার নাম তারা পার্বতী রাখে এবং যাকে সতীর অবতার বলে

মনে করা হয়।

 

পুরান সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য, ঘটনা এবং তাদের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো

পুরান কথায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।