পুরান কথা – গনেশের মুন্ডুচ্ছেদ
পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রী জাতক
আসন্ন গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আজ পুরান কথায় এই পর্বে লিখবো সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং
তার অদ্ভুত দর্শন রূপের সাথে জড়িয়ে
থাকা কিছু রহস্য ময় ঘটনা নিয়ে।
ভগবান গণেশের জন্ম, তাঁর শিরোচ্ছেদ এবং পরবর্তীতে তার স্থানে হাতির মাথা প্রতিস্থাপন নিয়ে
একাধিক শাস্ত্রে নানা রকম ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে বিষ্ণুর কৃপায় পার্বতীর এক পুত্র হয় এবং পুত্রের অন্ন প্রাসনে আমন্ত্রিত শনির দৃষ্টি পড়ায় মুণ্ড লোপ হল তার। তখন পুনরায় তাকে জীবিত করতে সেখানে বসানো হয় হাতির মাথা।সেই থেকে ওই রূপেই বিরাজমান গণেশ।
আরেকটা ব্যাখ্যা আছে যেখানে বলা হয় পার্বতী ধূলি কণা নিয়ে খেলার ছলে এক শিশু গড়ছেন। মাথার মাটি কম পড়েছে। তখন উপায় না দেখে মাথার স্থানে এক হাতির মাথা কেটে বসিয়ে দিয়ে মূর্তির সম্পূর্ণ করেন।সেই কারণে এই রুপ |
অন্য একটি পৌরাণিক ঘটনা অনুসারে একদিন শিব কৈলাশ ফেরার পর গুহা দ্বারে একটি বালককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। সেই গুহাতেই ছিলেন স্নান করছিলেন পার্বতী। মা-এর আদেশ মেনে শিবকে ওই গুফায় প্রবেশ করতে দেননি গণেশ। ফলে গণেশের ওপর রেগে যান মহাদেব। এর পরই শিবের অনুচরদের সঙ্গে গণেশের যুদ্ধ বাধে। একে একে সবাই গণেশের শক্তির সামনে পরাজিত হন। এর পর ত্রিশূল দিয়ে নিজের অজান্তেই পুত্র গণেশের শিরোশ্ছেদ করেন মহাদেব।পরে গণেশের মৃত্যুতে ক্রুদ্ধ পার্বতীকে শান্ত করতে গণেশের প্রাণ ফিরিয়ে দেন শিব এবং তা করতে হাতির মাথা ওই বালকের দেহে যুক্ত করা হয় শিবের নির্দেশে।
মনে করা হয় উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ে যে পাতাল ভুবনেশ্বর গুহা অবস্থিত।সেখানেই রয়েছে গনেশের কাটা যাওয়া মাথা যা দেখতে আসেন বহু মানুষ এমনকি দেবতারাও আসেন পুজো দিতে|
আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করছি|ফিরবো আগামী পর্বে।গণেশ সংক্রান্ত অন্য শাস্ত্রীয়
বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
