গণেশ চতুর্থীর শাস্ত্রীয় তাৎপর্য
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ গণেশ চতুর্থী। গণেশ শুধু আর মহারাষ্ট্র বা হিন্দি বলয়ের আরাধ্য দেবতা নন। তিনি বাঙালির খুব কাছের। সারা বাংলা জুড়ে এখন মহা সমারোহে গণেশ পুজো হয়।আজ আসুন জেনে নেয়া যাক গণেশ পূজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য।
সিদ্ধিদাতা গণেশের পূজা ঘরে সুখ, সমৃদ্ধি ও বৃদ্ধি নিয়ে আসে। শিব পুরাণে ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থীকে গণেশের জন্মদিন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। গণেশ পুরাণের মতানুযায়ী এই গণেশ অবতারের আবির্ভাব ঘটেছিল ভাদ্রপদ শুক্লা চতুর্থীতে।
অর্থাৎ পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, যেদিন ভগবান শিব ও মা পার্বতীর পুত্র গণেশের জন্ম হয়েছিল, সেই দিনটি ছিল ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী। তাই এই দিনটিকে গণেশ চতুর্থী ও বিনায়ক চতুর্থী নামে নামকরণ করা হয়।
পার্বতী পুত্র গণেশ প্রারম্ভের দেবতা। তিনি বিঘ্ননাশক দেবতা তাই তার অপর নাম বিঘ্নেশ বা বিঘ্নেশ্বর, আবার তিনিই শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক, এবং মহাবল, মেধা ও বুদ্ধির দেবতা।
বিভিন্ন পুরানে গণেশের একাধিক নামের অস্তিত্ব পাওয়া যায় যেমন হেরম্ব, বক্রতুণ্ড, একদন্ত, মহোদর, গজানন, লম্বোদর, বিকট ও বিঘ্নরাজ।
এদের মধ্যে একদন্ত নামটি নামটি হয়েছে তার একটি গজ দন্তের জন্য। এনিয়ে একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে।
একটি ব্যাখ্যা অনুসারে একবার পরশুরাম দেবাদিদেব মহাদেবের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর গৃহে যান। কিন্তু গণপতি দরজাতেই তাঁকে আটকে দেন। ভেতরে প্রবেশ করতে দেন না। কারণ সেই সময় মহাদেব ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। তখনই ক্রোধান্বিত হয়ে পরশুরাম গণপতির একটি দাঁত কেটে দেন তার অস্ত্র দিয়ে|
আবার এটাও মনে করা হয় যে বেদব্যাসের সঙ্গে মহাভারত লিখতে বসে, গণেশের কলম ভেঙে গিয়েছিল। যেহেতু ব্যাসদেব তাঁকে শর্ত দিয়েছিলেন যে, লেখা থামাতে পারবেন না। তাই গণপতি নাকি নিজের একটা দাঁত ভেঙে তা কলম হিসেবে ব্যাবহার করে লেখা চালিয়ে যান।
সেই থেকে গণেশ একদন্ত এবং এই
রূপেই তাকে পুজো করা হয়।
আজ শাস্ত্র মতে গণেশ পুজো করুন।গণেশ আরতির সময়ে – ” ওম গণ গণপতায় নমঃ’ মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে সহজেই গণেশকে সন্তুষ্ট করে তার কৃপা লাভ করতে পারেন।বিঘ্নহর্তার আশীর্বাদে সব বিঘ্ন দূর হবে।
সবাইকে জানাই গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা।
ফিরে আসবো আরো অনেক পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে।আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
