কালী কথা – রাজা কৃষ্ণচন্দ্রর কালী 

10

কালী কথা – রাজা কৃষ্ণচন্দ্রর কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নদীয়া রাজ কৃষ্ণ চন্দ্র বাংলার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শুধু রাজনীতি নয় ধর্ম কর্মর জন্য তিনি বিশেষ ভাবে সমাদৃত। বাংলার বহু প্রাচীন পূজো এবং মন্দিরের সাথে জড়িত আছে মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের নাম। এমনই এক কালী পূজো বসিরহাটের সংগ্রামপুরের কালী মন্দির।

 

শোনা যায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র দে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দির নির্মাণের জন্য জায়গা দান করেন। এরপর কৃষ্ণচন্দ্র দে এবং গ্রামবাসীদের উদ্যোগে এই কালী মন্দির স্থাপিত হয়।শুরুতে ছিল একটা খড়ের চাল দেওয়া মন্দির। তারপর ভক্তদের দানে ও মন্দিরের উন্নয়ন কমিটির সৌজন্যে সুন্দর পাকা মন্দির নির্মাণ হয়।

 

মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং স্বপ্নাদেশ নিয়ে একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।

একবার ইছামতীর বুকে নৌ বিহারের সময়ে রাজা কৃষ্ণ চন্দ্র রাতে স্বপ্ন দেখেন যে ইছামতীর উত্তর দিকের জঙ্গলের মধ্যে আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে এক নারী বলছেন সেখানে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে।সেই কথা মেনে রাজা মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব নেন।

 

দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত এবং তিনি এই এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের মেয়ে। জনশ্রুতি আছে মন্দিরের পিছনে যে পুকুরটি আছে, সেই পুকুরে গভীর রাতে একটা ছোট্ট মেয়ে লাল শাড়ি পড়ে পুকুরে নেমে স্নান করে। গ্রামবাসীরা মনে করেন ওই ছোট্ট মেয়েটি আর কেউ নন, তিনি স্বয়ং মা কালী। আর তাই গ্রামবাসীদের ধারণা, মা তাঁদের মধ্যেই থাকেন। এবং তাঁদের সব ইচ্ছেই পূরণ করেন।

 

কালী মা এখানে দক্ষিণা কালী রূপে বিরাজমান। মন্দিরে নিত্য পুজো হয় এবং ভোগও থাকে মায়ের জন্য প্রতিদিন। দেবীকে একেক দিন একেক রকম ভোগ নিবেদন করা হয়। যেমন লুচি, চিঁড়ে, ফল, খিচুড়ি,পায়েস ইত্যাদি। এমনকী আমিষ ভোগও দেওয়া হয় কোনও কোনও দিন।

 

পুজো হয় তন্ত্র মতে। ভাদ্র মাসে হয় ভদ্রা কালি পুজো,শ্যামা পুজোর রাতে হয় শ্যামা কালি পুজো।

শ্যামা পুজোর রাতেই ভিড় হয় সব থেকে বেশি। এই সময়ে প্রতিমার নতুন করে রঙ হয়। ছয়শো বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি।মায়ের এই নব রুপ দেখতে বিরাট সংখ্যায় ভক্তরা জড়ো হন।

 

ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী কথা। এখনো অনেক দেবী মন্দির নিয়ে লেখা

বাকি আছে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।