কালী কথা – জোড়াসাঁকো কালী বাড়ি
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত জোড়াসাঁকোর রবীন্দ্র সরণি মোড়ে রয়েছে একটি প্রাচীন কালী মন্দির। আজ কালী কথায় এই প্রসিদ্ধ কালী মন্দির নিয়ে লিখবো।
এক কালে এই অঞ্চল ছিলো ডাকাতদের ঘাঁটি।
সে সময়ে একটি বিশাল বটগাছের নীচে ডাকাতরা মা কালীর আরাধনা করত। একবার এক মাতৃ সাধক ব্রাহ্মণ সন্তান চিৎপুর রোড ধরে কালীঘাটে মায়ের মন্দির দর্শন করতে যাচ্ছিলেন। পথে ডাকাতদের কবলে পড়লেন তিনি।কিন্তু মা কালী ভক্তের সহায় ছিলেন ডাকাত সর্দার জানালেন তিনি গতরাতে মা ভবতারিণীর স্বপ্ন দেখেছেন। দেবী তাঁকে স্বপ্নে বলেছেন, তোর তো বয়স হয়ে গেল। এবার পুজোর ভার এক ব্রাহ্মণের হাতে ছেড়ে দে। আগামীকাল এক ব্রাহ্মাণ সন্তান এই বটগাছের পাশ দিয়ে কালীঘাট মন্দির দর্শনে যাবে। তাঁকে স্বপ্নাদেশের কথা বলে পুজোর দায়িত্ব
অর্পণ কর।
সব শুনে সেই ব্রাহ্মণ তারপর পুজো করতে রাজি হয়ে গেলেন। জোড়াসাঁকোতে কালী মন্দির গড়ে মাকে প্রতিষ্ঠা করে পূজো শুরু করলেন। সেই মন্দিরই আজকের জোড়াসাঁকো কালী বাড়ি এবং আজও বংশ পরম্পরায় সেই ব্রাহ্মণ পরিবারের সদস্যরাই পূজো করে আসছেন।
দেবী এখানে দক্ষিনাকালী এবং গর্ভ গৃহে শ্বেতপাথরের বেদীতে প্রতিষ্ঠিতা।শ্বেত সদাশিবের উপর দন্ডায়মান দেবী মূর্তি কষ্টিপাথর নির্মিত।
দেবী চতুর্ভুজা, তাঁর হাতে থাকে রৌপ্য খর্ড়্গ, নরমুণ্ড। মাথায় রৌপ্যমুকুট, তার উপরে রৌপ্যছত্র। দেবীর জিহ্বা সোনার।
দুর্গাপূজা কালী পূজা সহ প্রতিটি বিশেষ তিথিতে মহা সমারোহে দেবীর পূজোর আয়োজন হয় এবং সেই উপলক্ষে বহু ভক্তের সমাগম হয়।
ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী
পর্ব নিয়ে।চলতে থাকবে এই
ধারাবাহিক কালী কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
