পবিত্র রাখী পূর্ণিমার শাস্ত্রীয় তাৎপর্য
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ সারা দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র রাখী পূর্ণিমা উৎসব।ভারতীয় সনাতন সভ্যতায় বহু প্রাচীন কালথেকে চলে আসছে এই উৎসব|ভারতের পুরাণ, মহাকাব্য থেকে ইতিহাস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখী বন্ধনের গল্প।
রাখী পূর্ণিমা শুধু সামাজিক নয় একটি শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠানও বটে আজ রাখী বন্ধনের সেই শাস্ত্রীয়
গুরুত্ব নিয়ে লিখবো।
পুরান অনুসারে দেবী লক্ষী রাজা বলীর হাতে রাখী পড়িয়ে বিষ্ণু কে বৈকুন্ঠ লোকে ফিরিয়ে এনেছিলেন।
আমাদের দুটি প্রধান মহাকাব্য রামায়ণ এবং মহাভারতে রাখীর উল্লেখ আছে।রামায়নে মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রমে রাম-সীতার দুই সন্তান লব-কুশের জন্মের পর তাদের হাতে সুরক্ষা কবচ হিসেবে একটি বিশেষ সুতো বেঁধে দেন বাল্মীকি।
আবার মহাভারতে, মা কুন্তী যখন কর্ণকে জন্মের পর জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সদ্যোজাতের হাতে বেঁধে দিয়েছিলেন একটি সুতো যা রাখীর মতোই রক্ষা কবচ হিসেবে রক্ষা করেছিলো তার সন্তানকে।
শিশুপালের দিকে সুদর্শন চক্র ছুড়ে দেওয়ার সময় কৃষ্ণের হাতের আঙ্গুল কেটে রক্ত বের হতে শুরু করে। কৃষ্ণসখী দ্রৌপদী তাঁর শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিঁড়ে তাঁর হাতে বেঁধে দেন। বড়ো ভাইয়ের ন্যায় শ্রীকৃষ্ণও দ্রৌপদীকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
যা একপ্রকার রাখী বন্ধনই।
এই দিনে অনেকেই নিজের ইষ্ট দেবকে রাখী অর্পণ করেন। এতে খুব ভালো এবং দ্রুত
নিজের মনোস্কামনা পূর্ণ হয় বলে বিশ্বাস।
তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে রাখী অন্য মাত্রা পায়।রাখী বন্ধন প্রতিশ্রুতি রক্ষার উৎসব হয়ে যায়।নিজের প্রেম পর্যায়ের গানেও রবি
ঠাকুর লিখেছেন … ” মনে করে সখী,
বাঁধিয়া রাখিয়ো আমার হাতের রাখী
তোমার কনক কঙ্কনে।
আপনাদের সকলকে জানাই এই পবিত্র রাখী
বন্ধন উৎসবের অনেক শুভেচ্ছা এবং
অভিনন্দন।ভালো থাকুন।
পড়তে থাকুন।ধন্যবাদ।
