লৌকিক দেব দেবী – বুলেট বাবা

4

লৌকিক দেব দেবী – বুলেট বাবা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শুধু মাত্র বাংলাতেই লৌকিক দেব দেবীদের অস্তিত্ব আছে এমনটা নয়। দেশের নানা প্রান্তে বিরাজ করছেন একাধিক লৌকিক দেব দেবী। মূলত জনশ্রুতি। প্রচলিত কিংবদন্তী এবং লোককথা তেই তারা দেবতা। তবে তাঁদের ভক্তদের শ্রদ্ধা ভক্তিতে কোনো খুঁত নেই। এদের মধ্যে অনেকেই এক কালে মানুষ হলেও পরবর্তীতে নিজেদের অলৌকিক শক্তির জোরে দেবত্বে উন্নীত হয়েছেন। এমনই এক লৌকিক দেবতা রাজস্থানের বুলেট বাবা।

 

রাজস্থানের এক মন্দির আরাধ্য দেবতা একটি বুলেট বাইক এবং মন্দিরটি বুলেট বাবার মন্দির নামে বিখ্যাত|বিখ্যাত এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পিছনে রয়েছে অলৌকিক এক গল্প। তিন দশক আগে ১৯৯৮ সালে ওম সিং রাঠৌর নামে এক তরুণের মৃত্যু হয় পথদুর্ঘটনায়। স্থানীয় গ্রামবাসীর ছেলে ছিলেন তিনি। বুলেট বাবা মন্দিরে পুজো হওয়া বাইকটি আসলে ওম সিং রাঠৌরের । ওই বাইকটি নিয়ে ফেরার পথে পালির কাছে দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি। পরদিন পুলিশ তাঁর শবদেহ এবং বাইকটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কিন্তু গ্রামবাসীদের দাবি, রাতে আচমকা উধাও হয়ে যায় বাইকটি। সেটিকে খুঁজে পাওয়া যায় ওম সিং রাঠৌরের দুর্ঘটনার স্থানে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, এরকম ঘটনা এক নয় একাধিকবার ঘটে। ট্যাঙ্ক থেকে তেল খালি করে, চেন দিয়ে বেঁধে রাখলেও উধাও হয়ে গিয়েছে বাইকটি।স্থানীয়দের দাবি, আপনাআপনি ইঞ্জিন স্টার্ট হয়ে চালু হয়ে যায় বাইকটি। তারপর থেকেই একটি বিশ্বাস ছড়িয়ে যায় ওম বাবা নিজে ওই বাইকের মাধ্যমে বেঁচে আছেন। পথদুর্ঘটনায় আর যাতে কারও মৃত্যু না হয় তাই তিনি পাহারা দিতে বেরোন। এরপরই দুর্ঘটনাস্থলের গাছের নীচে প্রতিষ্ঠিত হয় বুলেট বাবার মন্দির।

 

রাজস্থানের যোধপুর থেকে পালির দিকে ৫০ কিমি গেলেই দেখা মিলবে এই বুলেট বাবা মন্দিরের। যেখানে পূজিত হয় ৩৫০ সিসি রয়্যাল এনফিল্ডের এক বহুমূল্য বাইক। বুলেট বাবার মন্দির বা ওম বাবার মন্দির বলে বিখ্যাত রাজস্থানের এই মন্দির। স্থানীয়দের বিশ্বাস বুলেট বাবার পূজো দিলে পথদুর্ঘটনা থেকে বাঁচাবেন বুলেট বাবা । তাই এদিকে যাত্রার আগে স্থানীয় থেকে পর্যটক, সমস্ত গাড়ি চালকরাই এই মন্দিরে পুজো দেন।শুধু তাই নয় গ্রামবাসীদের দাবী বাইকের কাছে যেকোনও সমস্যার কথা জানালে তা সমাধানও হয়ে যায়|

আজ রাজস্থানের তথা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় লৌকিক দেবতা এই বুলেট বাবা।

 

ফিরে আসবো আগামী দিন নতুন পর্ব নিয়ে।

চলতে থাকবে লৌকিক দেব দেবী নিয়ে ধারাবাহিক লেখা । পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।